ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ – সরকারী কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাতে কোনো আইনগত বাধা না থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী রীয়াজের মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। রীয়াজের কথা অনুসারে, বর্তমান পাবলিক সার্ভিস আইন ও নির্বাচনী বিধিমালায় সরকারি কর্মীদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ বা নির্দিষ্ট প্রার্থী‑পক্ষের সমর্থন জানাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি এ কথা জানিয়েছেন যে, সরকারী কর্মচারীরা ব্যক্তিগত নাগরিকের মতোই তাদের মতামত প্রকাশের অধিকার রাখে এবং তা আইনগতভাবে বাধা পায় না।
এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার সরকারী স্তরে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত তারিখের কাছাকাছি এ ধরনের প্রচারকে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকারী কর্মচারীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়াতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, যা রীয়াজের মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আলী রীয়াজ, যিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণে পরিচিত, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান আইন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক মত প্রকাশে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট বিধি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, তা হলে তা স্পষ্টভাবে আইনসভার মাধ্যমে গৃহীত হতে হবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়। রীয়াজের এই বক্তব্যের ভিত্তি হল ১৯৯২ সালের পাবলিক সার্ভিস রেগুলেশন, যা সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সীমা আরোপ করে না, তবে তাদের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আচরণ বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়।
বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশ্লেষক ও অধিকার সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকারি কর্মচারীদের পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার নির্বাচনী ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তারা উল্লেখ করেন যে, সরকারী সম্পদ ও অবস্থান ব্যবহার করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার করা হলে তা জনসাধারণের বিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে। তবে রীয়াজের মতে, এ ধরনের উদ্বেগ আইনগতভাবে সমর্থিত নয়, কারণ কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সরকারী কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।
এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সরকারের সমগ্র কাঠামোতে এই প্রচারের বিস্তারকে ইঙ্গিত করে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও নির্বাচনের গুরুত্ব ও জরুরি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব মন্তব্য একত্রে দেখায় যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই প্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকারী কর্মচারীদের সমর্থন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল নির্বাচনী পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, সরকারি সেবা গ্রহণকারী জনগণের মধ্যে কর্মচারীদের মতামত প্রভাবশালী হতে পারে, ফলে ভোটের প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। রীয়াজের মন্তব্যের পর, কিছু পার্টি নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং আইনগত দিক থেকে স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইনসভা সংস্থা এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে পারে। যদি কোনো নতুন বিধি প্রণয়ন করা হয়, তবে তা সরকারী কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে হবে। অন্যদিকে, সরকারী কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়ে যেতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক দলগুলো এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করবে, আর জনসাধারণের দৃষ্টিতে এই প্রচারকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ হিসেবে গ্রহণ করা হবে কিনা, তা ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণের বিষয়।



