19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের ৮ দেশে বাড়তি শুল্কের ঘোষণা

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপের ৮ দেশে বাড়তি শুল্কের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল তার সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই শুল্ক ব্যবস্থা গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্পের পোস্টের শুরুতে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ডেনমার্কের এখনই সময় এসেছে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফেরত দেওয়ার, কারণ এই বিষয়টি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দিচ্ছে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জন করতে পারবে না। তিনি এই বিষয়টি বিশ্ব নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

শুল্কের পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত না দিলেও, ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ আটটি ইউরোপীয় দেশকে লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই শুল্কগুলো গ্রিনল্যান্ডের চূড়ান্ত ক্রয় না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে এবং চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর শুল্ক আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানান যে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উত্তেজনার মুখে ফেলতে পারে। শুল্কের ফলে ইউরোপীয় রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের উপর আর্থিক চাপ বাড়বে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে এই শুল্কের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে কিছু দেশ শুল্কের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা শুল্কের প্রভাবকে সতর্কতামূলক দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, শুল্কের ফলে পণ্য মূল্যের বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা পড়তে পারে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডকে উল্লেখ করে বলেছেন যে, এই অঞ্চলটি উত্তর আটলান্টিকের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তাই, গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ অধিগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত শুল্কের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অধিকন্তু, ট্রাম্পের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন যে, তাদের বর্তমান নীতি ও অবস্থান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

শুল্কের আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনার নতুন পর্যায় শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, শুল্কের পরিমাণ, সময়সীমা এবং প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের ক্রয় চুক্তি কীভাবে অগ্রসর হবে এবং তা শুল্কের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ঘোষণায় গ্রিনল্যান্ডের চূড়ান্ত ক্রয় না হওয়া পর্যন্ত আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে এই শুল্কের প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নীতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments