কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে রাত সাড়ে আটটায় একটি বিদ্যুৎ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে দাদি‑নাতি সহ দুইজন প্রতিবেশী প্রাণ হারেছেন। ঘটনাস্থলটি কাশিয়ানী সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত্রিকালীন সময়ে বোরো ধানের চারা দিয়ে ইঁদুর থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যুতের তার দিয়ে বেড়া তৈরি করছিলেন।
মৃত্যুবরণকারী তিনজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে: ৫০ বছর বয়সী রাহেলা বেগম, তার নাতি ৮ বছর বয়সী সাইফান শিকদার এবং ৫৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী ইরান শিকদার। রাহেলা বেগমের স্বামী মোশারেফ শিকদার এবং নাতি সাইফান শিকদার উভয়ই এই গ্রামে বাস করেন, আর ইরান শিকদারও একই গাঁয়ের বাসিন্দা।
মুক্তিযোদ্ধা মীর সাজেদুর রহমান, মুকসুদপুর-কাশিয়ানী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারভাইজার, ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানিয়েছেন যে সাইফান শিকদার তার বাড়ির কাছাকাছি তৈরি করা বৈদ্যুতিক বেড়ার তারে লিকেজের শিকার হন। শিশুটি প্রথমে বিদ্যুৎ শক পেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে, তখন তার দাদি রাহেলা বেগম দ্রুত তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
রাহেলা বেগমের তৎপরতা সত্ত্বেও, তিনি নিজেই একই তারে স্পর্শ করে বিদ্যুৎ শক পান এবং ঘটনাস্থলে মারা যান। রাহেলা বেগমের তৎপরতা দেখে প্রতিবেশী ইরান শিকদারও তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়ে শিশুটিকে তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারাও বিদ্যুৎ শক পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
সাইফান শিকদারকে স্থানীয়দের সহায়তায় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকগণ প্রাথমিকভাবে তাকে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন, তবে পর্যবেক্ষণের পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্রীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের অবস্থা নথিভুক্ত করে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। মৃতদেহের পরিদর্শন ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলে মীর সাজেদুর রহমান জানান।
অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দল একত্রে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক তারের লিকেজের কারণ ও বেড়া তৈরির পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। এছাড়া, মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর গ্রামবাসীরা শোক প্রকাশ করে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আরও সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানায়। ঘটনাটির পুরো প্রক্রিয়া ও আইনি দিকের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



