শুক্রবার সন্ধ্যায় সানডারল্যান্ডের ঘরে ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সানডারল্যান্ড ২-১ স্কোরে জয়লাভ করে। প্যালেসের কেন্দ্রীয় রক্ষক মার্ক গুইহি ম্যানচেস্টার সিটিতে চলে যাওয়া এবং কোচ অলিভার গ্লাসনারের শেষ মৌসুমের ঘোষণা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি।
ম্যাচের শুরুর দিকে সানডারল্যান্ডের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল, তবে গ্রানিট ঝাকার অস্বাভাবিকভাবে মাঝখানে পাস ছেড়ে দেওয়া প্যালেসকে মাঝখানে আক্রমণ করার সুযোগ দেয়। ইয়েরেমি পিনো দ্রুত জাঁ-ফিলিপ মাতেটার দিকে পাস দিল, যার ফলে প্যালেসের ফরোয়ার্ডের শটটি রোবিন রোফসের চমৎকার সেভে থেমে গেল। রোফসের এই সেভে তার ফর্মের ইঙ্গিত দেয়, একই সঙ্গে সানডারল্যান্ডের মিডফিল্ডার এনজো লে ফে’রও দৃঢ় পারফরম্যান্স দেখা যায়।
প্যালেসের প্রথম গোলটি পিনোরই ছিল। উইল হিউজের কর্নার থেকে রোফসের নরম পাঞ্চকে পিনো চমৎকারভাবে বাধা দিয়ে, পুরো দেহে লাফিয়ে বলটি গেটের ছাদে পাঠিয়ে স্কোরকে ১-০ করে তুলেছিল। এই মুহূর্তে সানডারল্যান্ডের ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত বাড়ে, তবে দলটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।
সানডারল্যান্ডের সমান করার প্রচেষ্টা একটি ত্রিভুজাকার পাসের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে লে ফে’র সুনিপুণ ডেড বোলের ব্যবহার করে ট্রাই হুমের জন্য সুযোগ তৈরি হয়, যদিও হুমের হেডারটি কর্নার থেকে দূরে যায়। তবে লে ফে’র নিজস্ব গোলের সুযোগটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়, এবং তিনি বলটি গেটের নীচে পাঠিয়ে স্কোরকে ১-১ করে তুলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সানডারল্যান্ডের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। ব্রায়ান ব্রোবি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে দলের আক্রমণীয় শক্তি হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, লে ফে’র গোলের পরেই একটি দ্রুত কন্ট্রা-আক্রমণে বলটি পায়। তিনি এককভাবে ডিফেন্সকে অতিক্রম করে, শক্তিশালী শট দিয়ে বলটি নেটের কোণে পাঠিয়ে ২-১ করে দলকে এগিয়ে নেন।
এই জয় সানডারল্যান্ডের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি তাদের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জয় হয়ে দাঁড়ায়, যখন নিকটবর্তী সময়ে নিউক্যাসল একই ঘরে পরাজিত হয়েছিল। সানডারল্যান্ডের এই জয় তাদের এই সিজনে এই স্টেডিয়ামে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে দৃঢ় করে, যেখানে তারা এখন পর্যন্ত ৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের জয়হীনতা দশম ম্যাচে পৌঁছেছে, যা তাদের মোট ১০টি ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়ার রেকর্ডকে বাড়িয়ে দেয়। প্যালেসের পয়েন্ট সংখ্যা সানডারল্যান্ডের তুলনায় পাঁচ কম, যা তাদের মৌসুমের বাকি অংশে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে।
ম্যাচের পর প্যালেসের কোচ গ্লাসনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, দলের বর্তমান অবস্থা থেকে স্পষ্ট যে রক্ষণশীলতা ও আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতা বাড়াতে হবে। রোফসের সেভ এবং লে ফে’র ডেড বোলের ব্যবহার দলকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
সানডারল্যান্ডের কোচও জয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক রূপান্তর এবং রক্ষার দৃঢ়তা উল্লেখ করে। তিনি বলেছিলেন, “দলটি কঠিন মুহূর্তে মনোযোগ বজায় রেখেছে এবং সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পেরেছে।”
এই জয় সানডারল্যান্ডের জন্য আত্মবিশ্বাসের নতুন সঞ্চার ঘটাবে, বিশেষ করে যখন তারা প্যালেসের মতো শক্তিশালী দলকে পরাজিত করেছে। দলটি এখন লিগের মধ্যভাগে অবস্থান করে, এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই গতি বজায় রাখতে চায়।
সামগ্রিকভাবে, শুক্রবারের ম্যাচটি উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। সানডারল্যান্ডের উল্টো জয় এবং প্যালেসের ধারাবাহিক পরাজয় লিগের র্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন আনবে। উভয় দলই এখন তাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকবে।



