28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশনের 'রেডলাইন' এ ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের পার হওয়া রোধে এনসিপি...

নির্বাচন কমিশনের ‘রেডলাইন’ এ ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের পার হওয়া রোধে এনসিপি কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, নির্বাচনী আপিল শুনানির শেষ দিনকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য ‘রেডলাইন’ বলে চিহ্নিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি ইসি কোনো ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকদের ভোটদানের যোগ্যতা দেয়, তবে এনসিপি সরাসরি পদক্ষেপ নেবে।

এনসিপি তার অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলামোটরে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকালই আপিল শুনানির চূড়ান্ত দিন, তাই ইসির সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বহুবার সুযোগ ও সময় দেওয়া হয়েছে, তবু সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে ভোটদানের অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আর কোনো সুযোগ না দিয়ে ইসির কার্যক্রমকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এনসিপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যদি কোনো ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি কোনো শর্ত বা ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভোটদানের যোগ্যতা পায়, তবে দলটি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। এই অবস্থানটি দলটির জোট শারিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে গৃহীত হবে।

ভুঁইয়া আরও উল্লেখ করেন, পূর্বের তিনটি কমিশনের মতো একতরফা ও দায়সারা নির্বাচন পরিচালনা করা ইসির জন্য কোনো সুযোগ থাকবে না। এনসিপি তার জোটের সঙ্গে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করবে এবং এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।

দলটি এবং দশদলীয় নির্বাচনী ঐক্য একসঙ্গে দেশের নাগরিক, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে: কোনোভাবেই দায়সারা বা সেটেলড (আপসরফার) নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিয়ে তা রোধ করা হবে। এই বার্তায় তারা ইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সকল আবেদনপত্র আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো সুবিধা প্রদান করা হবে না। তবে এনসিপি এই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করে, বিশেষ করে যখন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের সম্ভাবনা দেখা যায়।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে ইসি দাবি করে যে, তারা দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কাজ করছে এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবু এনসিপি এই ব্যাখ্যাকে পর্যাপ্ত না বলে, অতিরিক্ত স্বচ্ছতা ও কঠোরতা দাবি করে।

আগামীকাল ইসির চূড়ান্ত পদক্ষেপের পর, এনসিপি তার পর্যবেক্ষণ ফলাফলের ভিত্তিতে রাস্তায় প্রতিবাদ, আইনি চ্যালেঞ্জ বা অন্যান্য রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। দলটি জোট শারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সকল বিকল্প বিবেচনা করবে।

এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ইসির সিদ্ধান্ত যদি ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকদের ভোটদানের অনুমতি দেয়, তবে তা এনসিপি ও তার জোটের মধ্যে বৃহত্তর বিরোধের সূত্রপাত করতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করবে।

সারসংক্ষেপে, এনসিপি ইসির ‘রেডলাইন’ দিনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি বলছে, তারা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে, প্রয়োজন হলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ থাকে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments