ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বাধীনপ্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আজ স্যারাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত একটি প্রচার সভায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের সঙ্গে তীব্র কথোপকথনে জড়িয়ে গেছেন। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এই সভায় কোনো ব্যানার বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি, তবে উপস্থিতি ও বক্তৃতা নির্বাচন কোডের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপের পর রুমিনকে মঞ্চ থেকে নামতে বলা হয় এবং মাইক্রোফোন ধরে থাকা এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে।
ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান সভা চলাকালীন সম্ভাব্য কোড লঙ্ঘনের লক্ষণ লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেন। তিনি রুমিনকে তার বক্তৃতা শেষ করে মঞ্চ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন এবং উপস্থিত পুলিশকে নির্দেশ দেন যে মাইক্রোফোন ধরে থাকা যুবককে আটক করা হোক। এই নির্দেশনা রুমিনের মুখে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে বলেন, “দয়া করে, স্যার… এটা শেষ সতর্কতা, আমি আর আপনার কথায় মনোযোগ দেব না।” তার পরের কথায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সতর্কতাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “যদি আমি না বলি, আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না।” রুমিনের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটও জানান যে কোড লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিছু উপস্থিত লোকের মতে, বিরোধী প্রার্থীরা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে থাকেন, যা রুমিন ফারহানা তীব্রভাবে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এভাবেই তারা আপনাকে দেখায়। আপনি প্রশাসনে বসে আছেন—যাও, যাচাই করে দেখো।” রুমিনের এই মন্তব্যগুলো তার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সাড়া জাগায় এবং তিনি সমাবেশে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে নিজের স্বতন্ত্রতা ও পার্টি না থাকার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশের শেষে রুমিন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি আজ শোনালাম, আমি আঙুল তুলে স্পষ্ট করে দিলাম যে আমি আর শোনাব না। যদি আমি না বলি, আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। মনে রাখবেন, আমি রুমিন ফারহানা—আমি কোনো দলের দরকার নেই।” তার এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার স্বতন্ত্রতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এই ঘটনার পূর্বে রুমিনের একজন সমর্থক মোঃ জুয়েলকে মোবাইল কোর্টে নির্বাচনী কোড লঙ্ঘনের জন্য ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল। জুয়েলকে সমাবেশের সময় অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ঘটনাস্থলে জানান, “একটি সমাবেশ নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘনে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, আমরা নিয়ম অনুযায়ী তা থামিয়ে আয়োজককে জরিমানা করেছি। সমাবেশ শেষ করার সময় প্রার্থী আমার সঙ্গে অনুপযুক্তভাবে আচরণ করেছেন।” তার এই মন্তব্যে কোড লঙ্ঘনের শাস্তি ও প্রার্থীর আচরণের প্রতি তার অসন্তোষ স্পষ্ট হয়।
সারাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবারক সকারও ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “প্রতিবেদন অনুযায়ী সমাবেশটি নির্বাচনী কোডের বিধি লঙ্ঘন করছিল, তাই প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। ভবিষ্যতে সকল প্রার্থী ও সমর্থককে কোডের শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” তার মন্তব্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
এই তর্কের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী পরিসরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। রুমিন ফারহানা স্বাধীনপ্রার্থী হিসেবে পার্টি না থাকার অবস্থান বজায় রেখে ভোটারদের কাছে নিজের স্বতন্ত্রতা তুলে ধরতে চান, তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ায় তার প্রচারণা কিভাবে এগোবে তা এখনো অনিশ্চিত। অন্যদিকে, নির্বাচনী কোডের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচার রক্ষার সংকল্প প্রকাশ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রার্থীরাও কোড মেনে চলার প্রেরণা পেতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সমাবেশের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও কোড লঙ্ঘনের শাস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে পারে। এছাড়া রুমিনের সমর্থক ও বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপও দেখা যেতে পারে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনা নির্বাচনী কোডের গুরুত্ব ও প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনমতকে সচেতন করে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে সমাবেশের সময় নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



