বার্লিনে ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (EFA) ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইউরোপের শীর্ষ চলচ্চিত্র ও নির্মাতাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায় এবং পুরস্কার বিতরণী রাতের লাইভস্ট্রিম অনলাইনেও উপলব্ধ।
প্রথাগতভাবে শীতকালীন পুরস্কার মৌসুমের শেষে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি এই বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আয়োজন করা হয়েছে, যাতে বাফ্টা ও অস্কারের আগে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের আলোকে বাড়ানো যায়। এই পরিবর্তনটি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃশ্যমান করতে লক্ষ্য করে।
নির্দেশক বিভাগে জোরালো প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। জাফার পানাহি, অলিভার ল্যাক্স, জোয়াকিম ত্রিয়ের এবং মাস্চা শিলিনস্কি একসাথে শীর্ষ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর গ্রীক পরিচালক ইয়র্গোস ল্যান্থিমোসের ‘বুগোনিয়া’ চলচ্চিত্রও উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা হিসেবে তালিকায় রয়েছে।
ত্রিয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ মোট পাঁচটি শীর্ষ ক্যাটেগরিতে নামাঙ্কিত হওয়ায় সামান্য অগ্রগতি পেয়েছে। অলিভার ল্যাক্সের ‘সিরাত’ চারটি ক্যাটেগরিতে (সেরা ফিচার, পরিচালক, অভিনেতা ও স্ক্রিপ্ট) মনোনয়ন পেয়েছে, যা এটিকে দ্বিতীয় স্থান দেয়।
‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ এবং ‘সাউন্ড অফ ফল্লিং’ প্রত্যেকটি তিনটি ক্যাটেগরিতে নামাঙ্কিত হয়েছে, যা তাদেরকে তৃতীয় স্তরে রাখে। এই চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন থিম ও শৈলীতে ইউরোপীয় সিনেমার বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে।
দুইবার অস্কার নোমিনেশন পাওয়া নরওয়েজিয়ান অভিনেত্রী ও পরিচালক লিভ উলম্যানকে আজীবন সাফল্যের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের ‘ক্রাইস অ্যান্ড হুইসপারস’ ও ‘সিনস ফ্রম এ মারেজ’ মতো ক্লাসিকের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
ইতালির পরিচালক অ্যালিস রোয়ারচারকে ইউরোপীয় বিশ্ব চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তার ‘লা চিমেরা’, ‘ফুটুরা’ ও ‘হ্যাপি অ্যাজ লাজারো’ চলচ্চিত্রগুলোকে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন।
পুরস্কার তালিকায় ‘আফটারনুনস অফ সলিটিউড’ (ইগর বেজিনোভিচ), ‘ডগ অফ গড’ (ইগর বেজিনোভিচ), ‘ফিউমে ও মর্টে!’ (ইগর বেজিনোভিচ) ইত্যাদি চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও জাফার পানাহির ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’, মাইলিস ভ্যালাডে ও লিয়ান-চো হানের ‘লিটল আমেলি’, এবং ইরিন ইবোরা রিজোর ‘অলিভিয়া অ্যান্ড দ্য ইনভিজিবল আর্থকোয়েক’ পুরস্কার জিতেছে।
অ্যান্ড্রেস ভেইলের ‘রিফেনস্টাল্ট’, জোয়াকিম ত্রিয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’, অলিভার ল্যাক্সের ‘সিরাত’, ওলহা ঝুরবার ‘সোংস অফ স্লো বার্নিং আর্থ’ এবং মাস্চা শিলিনস্কির ‘সাউন্ড অফ ফল্লিং’ও স্বীকৃতি পেয়েছে।
ডেভিড সুকুপ, প্যাট্রিক পাশ, লিয়ন ভিডমার ও জঁ-ক্লদ রোজেকের যৌথ পরিচালিত ‘টেলস ফ্রম দ্য ম্যাজিক গার্ডেন’ এবং কৌথার বেন হানিয়ার ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজাব’ এই বছরের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে গণ্য হয়েছে।
কামাল আলজাফারির ‘উইথ হাসান ইন গাজা’ এবং কামাল আলজাফারির ‘আফটারনুনস অফ সলিটিউড’ (আলবার্ট সের্রের পরিচালনা) চলচ্চিত্রগুলোও পুরস্কার তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এই বছর নতুন সময়সূচি ও বিস্তৃত ক্যাটেগরির মাধ্যমে ইউরোপীয় সিনেমার গ্লোবাল প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে। শিল্পের বিভিন্ন স্তরে কাজ করা সৃজনশীল ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিয়ে এই অনুষ্ঠানটি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



