চেলসি এবং ব্রেন্টফোর্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে চেলসি ২-১ স্কোরে জয়লাভ করে, ফলে লিয়াম রোজেনিয়রের তত্ত্বাবধানে দলটি প্রথম তিন পয়েন্ট পায়। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে রোজেনিয়র খেলোয়াড়দের মাথা ঠাণ্ডা রাখতে উৎসাহিত করেন, যা ফলস্বরূপ দলকে নিরাপদে জয় নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে নাথান কলিন্সের ব্যাক-পাসে কাওহিন কেলেহার লিয়াম ডেলাপকে ফাউল করেন, ফলে পেনাল্টি দেওয়া হয়। কোলে পার্মার পেনাল্টি নিখুঁতভাবে মারেন এবং স্কোরকে ১-১ করে তুলেন।
প্রথম গোলটি ২৬তম মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর দায়িত্বে আসে। ভিআরএ সাহায্যে নিশ্চিত করা এই গোলটি চেলসির জন্য প্রাথমিক সুবিধা এনে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে জোয়াও পেদ্রো আবারও স্কোর বাড়িয়ে দেন, যা ম্যাচের ভারসাম্যকে আবার চেলসির পক্ষে ঝুঁকে দেয়। উভয় দিকের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখালেও চেলসির আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করে।
ব্রেন্টফোর্ডের তিনটি পরিষ্কার সুযোগের পরেও তারা কোনো গোল করতে পারেনি, ফলে প্রথম ছয় ম্যাচে তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ডে প্রথম পরাজয় হয়। সুযোগগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে দলটি কমপক্ষে একটি পয়েন্টও নিতে পারত।
বেঞ্চে বসে রোজেনিয়র তার সহকর্মী কোচদের সঙ্গে হালকা হাততালি বিনিময় করেন, তারপর দ্রুত উঠে খেলোয়াড়দের দিকে ইঙ্গিত করে মাথা ঠাণ্ডা রাখার আহ্বান জানান। এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা শেষের ১৫ মিনিটে দলকে স্থিতিশীল রাখে।
সিজনের শুরুতে চেলসির পারফরম্যান্সে কিছু অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, বিশেষ করে আরসেনালের বিরুদ্ধে ৩-২ হারে পরাজয়ের পর মিডফিল্ড ও ডিফেন্সে ফাঁক দেখা গিয়েছিল। তবে আজকের ম্যাচে এই দুর্বলতাগুলোকে বড়োভাবে কাজে লাগাতে পারল না ব্রেন্টফোর্ড।
ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামে প্রায় ২০০ জন সমর্থক একটি ছোট প্রতিবাদে অংশ নেন, যেখানে রোমান আব্রামোভিচ এবং এনজো মারেস্কার সমর্থনে চিৎকার শোনা যায়। এই প্রতিবাদটি ক্লাবের মালিকানার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিছু সমর্থক রোজেনিয়রের পূর্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে তিনি আরসেনালের বিরুদ্ধে পার্মার ও রিস জেমসকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, কারণ কাপের ম্যাচগুলোকে ক্লাবের অগ্রাধিকার না বলে বিবেচনা করা হয়। তবে আজকের ম্যাচে উভয়ই স্টার্টিং ইলেভেনে ছিলেন, যা সেই তত্ত্বকে দুর্বল করে।
চেলসি আজকের ম্যাচে পাঁচজন খেলোয়াড়ে পরিবর্তন আনে, আর ব্রেন্টফোর্ড এফএ কাপের পর থেকে আটজন খেলোয়াড়ে পরিবর্তন করে। এই পরিবর্তনগুলো সত্ত্বেও চেলসির আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা কার্যকরভাবে কাজ করে।
ফলস্বরূপ চেলসি তিন পয়েন্টের সঙ্গে লিগে প্রথম জয় অর্জন করে, আর ব্রেন্টফোর্ডের ছয় ম্যাচের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শৃঙ্খলায় প্রথম ক্ষতি হয়। উভয় দলই পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের অবস্থান উন্নত করার জন্য প্রস্তুতি নেবে।



