22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাকুরিগ্রাম হোমিওপ্যাথি কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ ও শাস্তি

কুরিগ্রাম হোমিওপ্যাথি কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগ ও শাস্তি

কুরিগ্রাম সদর, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের দাসেরহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের হস্তক্ষেপে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পাশাপাশি একজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা চারটি বর্ষের জন্য একসাথে অনুষ্ঠিত হয়; মোট ২৪৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ১৩৪ জন সকাল শিফটে এবং বাকি প্রার্থীরা বিকালের সেশনে পরীক্ষা লিখে। পরীক্ষার আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনু বেগম, যিনি অনুমতি প্রদান করে পরীক্ষা হলগুলোতে প্রবেশ করেন।

পরীক্ষার সময় কয়েকটি কক্ষে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তাদের বোর্ড বই ও নোট গাইড ব্যবহার করে উত্তর লিখছে। এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করে দায়িত্বশীল শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হলেও, কোনো তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ শোনার পর ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রথম বর্ষের একটি শিক্ষার্থীকে নকলের অভিযোগে বহিষ্কৃত করা হয় এবং একই কক্ষে দায়িত্বে থাকা ডা. খগেন্দ্র নাথ বর্মনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

স্থানীয় কিছু মানুষ দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে কলেজের সহযোগিতায় নকলের একটি বৃহৎ অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রীনু বেগম এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিজে প্রতিটি কক্ষ পরিদর্শন করেছেন এবং কোনো নকলের ঘটনা লক্ষ্য করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নকলের অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিকের মতে, পরীক্ষার সময় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি ভবিষ্যতে সকল পরীক্ষায় কঠোর মনিটরিং বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিকালের সেশনে পুরো সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন, যা পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এই উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই মনোভাবকে সঠিক পথে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নকলের অভিযোগের পর্যালোচনা চলাকালীন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন আরও সতর্ক হতে হবে যাতে নকলের কোনো সুযোগ না থাকে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনার একটি শিক্ষা হল, স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য। নকলের ফলে যে শাস্তি হতে পারে, তা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে, পরীক্ষার সময় পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। দায়িত্বশীল শিক্ষক ও পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা নকলের প্রতিরোধে মূল চাবিকাঠি।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নকল প্রতিরোধে প্রযুক্তি ব্যবহার, অতিরিক্ত তত্ত্বাবধানকারী কর্মী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।

**ব্যবহারিক টিপস:** পরীক্ষার আগে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন, নকলের কোনো প্রলোভন না রাখুন এবং যদি কোনো অনিয়ম দেখেন তা সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন। আপনার সততা আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments