বুলাওয়ায়োতে অনুষ্ঠিত অধিবয়সী বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারতের দল মুখোমুখি হয়। টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে এবং বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার দুজনই হাত না মিলিয়ে টস সম্পন্ন করেন। এই ঘটনা তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ম্যাচের আগে টসের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জাওয়াদের এক হাতে মাইক্রোফোন এবং অন্য হাতে ট্রাউজারের পকেটের মধ্যে হাত ছিল। আয়ুশ টসের জন্য মুদ্রা নিক্ষেপ করেন এবং ফলস্বরূপ বাংলাদেশ টস জিতে। জাওয়াদ পকেট থেকে হাত বের করলেও দুই অধিনায়কই একে অপরের দিকে হাত বাড়াননি।
টসের পর জাওয়াদ সরাসরি সঞ্চালকের সঙ্গে কথা বলতে লাগেন, ফলে হাত না মিলানোর মুহূর্তটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উভয় দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রকাশ করে। তদুপরি, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার নিয়ে নানা অনুমান ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।
বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) পরে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম অসুস্থতার কারণে টসে অংশ নিতে পারেননি, ফলে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
বিসিবি স্পষ্ট করে জানায় যে, প্রতিপক্ষের অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং মুহূর্তের মনোযোগের ঘাটতির ফল। কোনো অসম্মান বা অবমাননা করার ইচ্ছা সেখানে ছিল না, এ কথাই বোর্ডের প্রকাশ্য মন্তব্য।
এই ব্যাখ্যা দেওয়ার আগে, পূর্বে এশিয়া কাপের সময় ভারতের অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ এবং পাকিস্তানের অধিনায়কের মধ্যে হাত না মিলানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় দুই দলের মধ্যে তীব্র তর্ক ও সমালোচনা দেখা গিয়েছিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে।
যদিও এই দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের পটভূমি জটিল, তবে বিসিবি জোর দিয়ে বলেছে যে টসের সময় হাত না মিলানো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বহন করে না। এটি শুধুমাত্র একটি মানবিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক এহসানুল হক, যিনি জিম্বাবুয়েতে অবস্থান করছেন, তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানান যে হাত না মিলানো ইচ্ছাকৃত নয়, বরং ভুলবশত ঘটেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ম্যাচের শেষে উভয় দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে।
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তবে বিসিবি দ্রুতই স্পষ্টীকরণ প্রদান করে। বোর্ডের প্রকাশনা অনুযায়ী, টসের সময় মনোযোগের অভাবই মূল কারণ এবং কোনো অবমাননামূলক ইঙ্গিত নেই।
ম্যাচের ফলাফলও উল্লেখযোগ্য ছিল; টস জয়ী বাংলাদেশ টসের সুবিধা নিয়ে প্রথম ব্যাটিং করে। তবে টসের ফলাফল ও হাত না মিলানোর বিষয়টি ম্যাচের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়।
উল্লেখযোগ্য যে, টসের সময় জাওয়াদের হাতে মাইক্রোফোন থাকায় তিনি টসের সময় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেননি, যা হাত না মিলানোর কারণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিসিবি এই ঘটনার পর সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে পুনরায় হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আহ্বান জানায়। বোর্ডের মতে, ক্রীড়া মানসিকতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচের পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, যা ঘটনাটির অনিচ্ছাকৃত প্রকৃতি আরও স্পষ্ট করে।
এই ঘটনার পর, অধিবয়সী বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে বাংলাদেশ ও ভারতের দলগুলো তাদের নিজ নিজ গ্রুপে খেলতে থাকবে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উভয় দলই নিজেদের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেবে।
বিসিবি ভবিষ্যতে এমন কোনো ভুল না হয় তা নিশ্চিত করতে টসের সময় অতিরিক্ত নির্দেশনা ও তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
অধিনায়কদের মধ্যে হাত না মিলানো যদিও অনিচ্ছাকৃত, তবু ক্রীড়া নীতি অনুযায়ী এটি সংশোধন করা প্রয়োজন বলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নীতি উল্লেখ করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের মোকাবিলায়, বিসিবি সকল মিডিয়াকে সঠিক তথ্য প্রচার করতে আহ্বান জানায়।
এই ঘটনা ক্রীড়া জগতে পারস্পরিক সম্মান ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা একসাথে কাজ করবে।
অধিবয়সী বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে, দুই দলই নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে এবং টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছাতে মনোযোগী। হাত না মিলানোর ঘটনাটি যদিও আলোচনার বিষয়, তবে ক্রীড়া আত্মা ও প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে।



