লন্ডনের ইরানি দূতাবাসের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা ২০:৪৫ GMT-এ অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে মোট চৌদ্দজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানায়, demonstrators-রা দূতাবাসের ব্যালকনি ও টেরেসে চড়ে ফ্ল্যাগ অপসারণের চেষ্টা করে, যার ফলে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কিছু অফিসার ও নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ব্যালকনি অতিক্রম করে দূতাবাসের টেরেসে পৌঁছে ইরানি পতাকা সরিয়ে নেয়; তাকে অপরাধমূলক ক্ষতি, কূটনৈতিক সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ এবং পুলিশে আক্রমণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে জেলখানায় রাখা হয়েছে।
অন্যান্য তেরজনকে সহিংস অশান্তি, জরুরি কর্মীকে আক্রমণ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং কূটনৈতিক সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের মতো অপরাধের জন্য আটক করা হয়। পুলিশ এই ঘটনার পর সেকশন ৩৫ ডিসপার্সাল অর্ডার জারি করে, যাতে এলাকায় অতিরিক্ত অশান্তি রোধ করা যায় এবং নিরাপত্তা বজায় থাকে।
প্রতিবাদ চলাকালীন কিছু বস্তুও পুলিশে নিক্ষিপ্ত হয়; ফলে চারজন অফিসার হালকা আঘাত পায়, তবে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মতে, একই সময়ে এক্সিবিশন রোড ও কেনসিংটন রোডের সংযোগস্থলে জরুরি কল পাওয়া যায়, যেখানে চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুইজনকে现场ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এই প্রতিবাদ ইরানে চলমান বিরোধী সরকারের প্রতিবাদে অনুপ্রাণিত, যেখানে সাম্প্রতিক মাসে সশস্ত্র দমন ও গুলির ফলে হাজারো নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ছে এবং লন্ডনের মতো প্রধান রাজধানীর দূতাবাসে প্রতিবাদকে কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন স্তরে নিয়ে এসেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে ইরানি দূতাবাসের দূতকে ডেকে তার কাছে ইরানে ঘটিত গুলিবিদ্ধ প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই পদক্ষেপটি লন্ডনের ইরানি দূতাবাসের সামনে বাড়তে থাকা প্রতিবাদকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয় এবং ইরান-যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
গত শনিবারও একই দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়; সেই সময়ও একজন demonstrator ব্যালকনি থেকে ইরানি পতাকা ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। তবে এইবারের ঘটনার পরিসর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অমিতাভ দাশবর্মণ বলেন, “লন্ডনের ইরানি দূতাবাসের সামনে এই ধরনের প্রতিবাদ কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি নয়, বরং যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ব্রিটিশ সরকারকে কূটনৈতিক সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি শমনের চেষ্টা করা উচিত।”
পরবর্তী সপ্তাহে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবে এবং কূটনৈতিক সম্পত্তির আশেপাশে অতিরিক্ত ক্যামেরা ও গার্ড বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্য ও ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা পরস্পরের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি উচ্চ-স্তরের বৈঠক নির্ধারণের কথা জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, লন্ডনের ইরানি দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা উভয়ই প্রকাশ করে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করবে।



