বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রাহমান আজ সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের সঙ্গে এক ঘন্টার বৈঠক সম্পন্ন করেন। বৈঠকটি ঢাকা গুলশানের তারিকের অফিসে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনা হয়।
বৈঠকের সময়কাল প্রায় এক ঘন্টা ছিল এবং এ সময়ে দু’পক্ষই বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারিক রাহমানের লন্ডনে প্রায় পনেরো বছর কাটিয়ে ডিসেম্বর ২০২৫-এ দেশে ফিরে আসার পর, এই বৈঠকটি তার প্রথম যুক্তরাজ্য হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিএনপি সূত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দল সরকার গঠন করলে তারিক রাহমান উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ওপর ভিত্তি করে আরও বেশী দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, দু’পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যৌথ সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ুন কবির, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মাহাদি আমিন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ের সেক্রেটারি রাশেদুল হক। এই কর্মকর্তারা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি সমন্বয় করে হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।
বৈঠকের পর হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, যদিও আজ সাপ্তাহিক ছুটি, তবুও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও তারিক রাহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সব মিটিংই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কবিরের মতে, বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকরা নিজেদের দেশের সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং তা আলোচনা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, তারিকের ঐতিহাসিক ফিরে আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে তারিকের সাক্ষাৎ এই প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে।
হুমায়ুন আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে তারিক রাহমান স্পষ্টভাবে বলেন যে বিদেশি সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব রক্ষার মাধ্যমে। এই বক্তব্যে তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের আগে দুপুরে নেপালের দূত গ্যানশ্যাম ভান্ডারি এবং ভুটানের দূত দাশো কার্মা হামু দর্জি আলাদা আলাদা সময়ে তারিক রাহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা দেশের উন্নয়ন ও কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলাপ করেন।
এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক দিক হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয় সংলাপ বজায় রেখে দলটি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চায়।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দেশের বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ও স্বার্থ রক্ষার নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি দল সরকার গঠন করে, তবে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মিটিংগুলো নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



