মিরপুরের শের‑ই‑বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ট২০ ম্যাচে রাজশাহী দল চট্টগ্রামকে ১২৫ রানে পরাজিত করে। টস জিতে ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্ত ফিল্ডিং বেছে নেন, যা শেষ পর্যন্ত দলের জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
শান্তের সিদ্ধান্তের সঠিকতা প্রথম ওভারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজশাহীর বোলাররা ধারাবাহিক গতি ও সঠিক লাইন বজায় রেখে চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
বিশেষ করে তানজিম হাসান সাকিবের বোলিং রেকর্ডে চোখে পড়া পারফরম্যান্স দেখা যায়। তার গতি ও স্পিনের সমন্বয় এমন ছিল যে চট্টগ্রামের কোনো ব্যাটসম্যান তার সামনে স্থির থাকতে পারছিলেন না।
চট্টগ্রাম ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে, যা তাদের স্কোরকে দ্রুত কমিয়ে দেয়। মাঝারি ওভারগুলোতে একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হয়ে দলকে অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত করে।
অবশেষে আসিফ আলীর পালা আসে, যিনি দলকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি ৩৯ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে চারটি ছক্কা (২৪ রান) অন্তর্ভুক্ত।
তবে আসিফের আউট হওয়াও তানজিমের হাতে ঘটে। তানজিমের ধারাবাহিক বোলিং তাকে শিকার করে, ফলে চট্টগ্রামের স্কোরে আর কোনো বড় বৃদ্ধি না পায়।
চূড়ান্ত স্কোরে চট্টগ্রাম ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১২৫ রান করে শেষ হয়। এই ফলাফল রাজশাহীর বোলিং ইউনিটের শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা প্রকাশ করে।
তানজিম হাসান সাকিবের বোলিং পরিসংখ্যানও চমকপ্রদ। তিনি ৪ ওভারে ১৭ রান conceded করে ৪টি উইকেট নেন, যার মধ্যে একটি পূর্ণ ওভার (মেডেন) অন্তর্ভুক্ত।
রায়ান বার্ল ও জাহান্দাদ খানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রত্যেকেই চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের ওপর একটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন, যা দলকে দ্রুত শেষ ওভারে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
রাজশাহীর এই জয় দলকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস যোগায়। বোলারদের ধারাবাহিকতা ও ক্যাপ্টেনের ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করা যায়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, রাজশাহীর বোলিং ইউনিটের সঠিক পরিকল্পনা ও এক্সিকিউশনই এই জয়কে সম্ভব করেছে। চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইন‑আপের দুর্বলতা তানজিমের বোলিংয়ে প্রকাশ পায়, যা ভবিষ্যৎ ম্যাচে তাদের জন্য সতর্কতা হতে পারে।
এই ফলাফল ট২০ সিরিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এবং উভয় দলের পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রদান করে।



