শুক্রবার ১৭ জানুয়ারি, নোয়াগাও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে একটি রাজনৈতিক সমাবেশের সময় রুমিন ফারহানা এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে তীব্র কথোপকথন ঘটেছে। রুমিন ফারহানা সমাবেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে সমাবেশ বন্ধ করতে আহ্বান জানান।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও সমাবেশের অনুমোদন নিয়ে রুমিন ফারহানা তীব্রভাবে মন্তব্য করেন এবং বলেন, যদি সম্ভব হয় তবে এই ধরনের অবৈধ সমাবেশ তৎক্ষণাৎ থামাতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে তিনি শালীনতা বজায় রাখবেন না যদি এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকে।
রুমিন ফারহানার পাশে থাকা একজন সমাবেশকারী তার অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেটকে তীব্রভাবে অপমান করেন। তিনি হাতের মধ্যমা আঙুল তুলে, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা নিয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন এবং বলেন, তারা কোনো কাজ করতে সক্ষম নয়।
এরপর রুমিন ফারহানা নিজেও একই অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশাসনের মধ্যে বসে থাকা কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করেন, আজ তিনি সরাসরি তাদের দিকে ইঙ্গিত করে কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতে আর শোনাবেন না বলে জানিয়ে দেন। তিনি অতীতের শীর্ষ নেতৃত্বের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বর্তমান কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন এবং নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ঘটনাটি মিডিয়ার কাছে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সমাবেশটি নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাই তা অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের দলিল অনুসারে সমাবেশের আয়োজককে সমাবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, অবৈধ সমাবেশের সময় তারা现场 উপস্থিত হয়ে সমাবেশকারীদের সমাবেশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। সমাবেশকারীরা যখন ত্যাগের পথে এগিয়ে যায়, তখন আয়োজক মি. জুয়েলকে ৪০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানা সমাবেশের অবৈধতা নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশ ত্যাগের সময়, সমাবেশের একজন প্রার্থী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ করেন। ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, প্রার্থীর এই আচরণ শালীনতা ও শৃঙ্খলার বিরোধী এবং তিনি তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্মকর্তার কাছে জানিয়ে দেন।
শাহরিয়া হাসান খান এই ঘটনাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়ে দেন যাতে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরণের অবমাননা বা অনাদরকে সহ্য করা হবে না এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রুমিন ফারহানা ও ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে এই ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। সমাবেশের অবৈধতা ও তার ফলে আরোপিত জরিমানা স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
অধিকন্তু, এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক নেতাদের চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে সমাবেশের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনার সম্ভাবনা তৈরি করে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও আইনগত প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ সমাবেশের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে, ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস সম্ভবত সমাবেশের আয়োজক ও অপমানিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের করবে। একই সঙ্গে, রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্যের প্রত্যাশা থাকবে, যা রাজনৈতিক আলোচনার দিক পরিবর্তন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নোয়াগাও ইউনিয়নের ইসলামাবাদে রুমিন ফারহানা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি একটি অবৈধ সমাবেশের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যেখানে সমাবেশের আয়োজককে জরিমানা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অপমানজনক আচরণকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



