ঢাকা শহরে শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের দলকে অন্য গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনা। বৈঠকের ফলাফল একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিসিসি বর্তমানে দলটি গ্রুপ সি-তে রয়েছে, যেখানে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপাল সহ পাঁচটি দল রয়েছে। এই গ্রুপের সব ম্যাচ ভারতের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এবং টুর্নামেন্টের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে।
অন্যদিকে গ্রুপ বি-তে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওমান, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রুপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কার ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে নির্ধারিত। গ্রুপ সি ও গ্রুপ বি-র এই পার্থক্যই দল পরিবর্তনের আলোচনার পটভূমি গঠন করে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈঠকটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদারী পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে। উভয় পক্ষই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে স্বচ্ছভাবে মতবিনিময় করেছে এবং গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে, যাতে লজিস্টিক্যাল পরিবর্তন কমিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়।
বিসিসি আবারও বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অনুরোধের পেছনে বাংলাদেশের সরকারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে, যা খেলোয়াড়, ভক্ত, মিডিয়া কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
আইসিসি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন গৌরব শাক্সেনা, জেনারেল ম্যানেজার (ইভেন্টস ও কর্পোরেট কমিউনিকেশনস), যিনি ভিসা সমস্যার কারণে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ, জেনারেল ম্যানেজার, আইসিসি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের, সরাসরি ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসি দিক থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, উপ-সভাপতি শাকাওয়াথ হোসেন ও ফারুক আহমেদ, পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশনস কমিটি চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বৈঠকের শেষে উভয় সংস্থা একমত হয় যে, বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে। এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে যে, গ্রুপ পরিবর্তন বা ম্যাচ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দ্রুত ও সুনির্দিষ্টভাবে নেওয়া হবে।
গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা টুর্নামেন্টের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে যদি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় খেলার অনুমতি পায়। সেই ক্ষেত্রে দলটি গ্রুপ বি-তে স্থানান্তরিত হয়ে শ্রীলঙ্কার ভেন্যুতে ম্যাচ খেলবে, যা ভ্রমণ ও প্রস্তুতির দিক থেকে সুবিধা দিতে পারে।
লজিস্টিক্যাল দিক থেকে গ্রুপ পরিবর্তন মানে ভ্রমণ পরিকল্পনা, হোটেল বুকিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন। তবে রিলিজে উল্লেখ আছে যে, এই পরিবর্তনগুলোকে ন্যূনতম সমন্বয় দিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে, যাতে খেলোয়াড় ও স্টাফের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা উদ্বেগের মূল কারণ হল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বড় সংখ্যক ভক্ত ও মিডিয়া উপস্থিতি। অতএব, ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তর করা হলে সেসব ঝুঁকি কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিসিসি ও আইসিসি উভয়ই এই বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে সময়মতো তথ্য প্রদান করবে। ভবিষ্যতে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এই বৈঠকটি টিমের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত। গ্রুপ পরিবর্তন বা ম্যাচ স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টিমের পারফরম্যান্স এবং ভক্তদের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
বিসিসি ও আইসিসি উভয় সংস্থা এই আলোচনাকে অব্যাহত রাখবে এবং শীঘ্রই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে, যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা পায় এবং বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত হয়।



