28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, কোনো প্রাণহানি না

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, কোনো প্রাণহানি না

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮তলা নতুন ভবনের ৬ তলায় অবস্থিত শিশু ওয়ার্ডে শনিবার বিকেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের সূত্রপাত বিকাল ৪:৩৬ টায় স্টোর রুম থেকে হয়েছে এবং দ্রুত পুরো তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া ঘন হওয়ায় রোগী ও কর্মচারীরা উপরে উঠতে বা নিচে নামতে পারছিলেন না, তবে কোনো প্রাণহানি রেকর্ড করা যায়নি।

আগুনের শিখা ধোঁয়ার সঙ্গে মিলিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি করে। রোগীদের কোলে নিয়ে স্বজনরা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে বাধ্য হয়। এই সময়ে হুড়োহুড়ি ও চিৎকারের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়, তবে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একজন রোগীর স্বজন জানান, ধোঁয়া ঘন হয়ে উঠলে তিনি তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে কোলে নিয়ে অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া নিচে নামেন। সিঁড়িতে মানুষের চাপের ফলে শিশুর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এবং স্বজন নিজেও কিছু শারীরিক কষ্ট অনুভব করেন। অন্য একটি স্বজন উল্লেখ করেন, আগুনের সময় চারদিকে চিৎকার ও ছোটাছুটি ছড়িয়ে ছিল এবং অনেক রোগীকে ভয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগে রোগী হিসেবে থাকা একজন নারী, যিনি অসুস্থ নাতনিকে নিয়ে ছিলেন, তিনি বলেন ধোঁয়ার কারণে উপরে উঠতে পারছিলেন না এবং নামতেও পারছিলেন না, ফলে কান্না ও চিৎকার ছাড়া আর কিছু করতে পারছিলেন না। পরে কয়েকজন কর্মী একত্রে তাকে নামিয়ে আনে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিকাল ৫:১৫ টায় আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে দেয়। উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, স্টোর রুমে থাকা রোগীর আসবাবপত্রের সংরক্ষণাগার থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান উল্লেখ করেন, ছয়তলা মূলত শিশু ওয়ার্ড, এবং আগুনের সঙ্গে সঙ্গে সব রোগীকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ফলে কিছু আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হচ্ছে এবং দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সিস্টেমের নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে।

এই ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি প্রশিক্ষণ ও ড্রিলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোকাবিলা করা যায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments