মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা রাজ্যের দুই সেনেটর ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ভারতের ডাল‑মটর শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। উভয় রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের ডাল ও মটর উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও ভারতীয় শুল্কের কারণে তাদের পণ্যগুলোকে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে ধরা পড়ছে।
মন্টানার সেনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সেনেটর কেভিন ক্রেমার চিঠিতে ট্রাম্পকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে এই “অন্যায়সঙ্গত” শুল্কটি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ক্ষমতা এবং ভারতের বিশাল চাহিদা একসাথে ব্যবহার করে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি গঠন করা সম্ভব।
বাণিজ্য সচিবের মতে, দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভার্চুয়াল আলোচনার ধারা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষ প্রস্তুত থাকলে প্রথম চুক্তির ধারা দ্রুত স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারত বিশ্বব্যাপী ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ ব্যবহার করে, যার মধ্যে মসুর, ছোলা ও শুকনা শিমের চাহিদা বিশেষভাবে বেশি। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃষক সংগঠনের চাপ মোকাবেলা করতে এই শুল্কটি আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্পের রপ্তানিকে ভারতীয় বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই নীতি অনুসারে, ভারতীয় ক্রেতারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের তুলনায় বিকল্প সরবরাহকারীকে বেশি পছন্দ করে চলেছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই বাণিজ্যিক সংঘাত ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে এবং তা কেবল দুই দেশের অর্থনীতির ওপর নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল ও মটর রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস পেলে মন্টানা ও নর্থ ডাকোটার কৃষক সম্প্রদায়ের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
যদি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরা ভারতের বিশাল বাজারে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা কৃষক খাতের আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে সহায়ক হবে। তবে শুল্ক দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকলে ভারতীয় ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারীকে বেছে নিতে পারে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার শেয়ার স্থায়ীভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
সেনেটরদের এই উদ্যোগ বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব সমাধানে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা ও ভারতের চাহিদার সমন্বয় দুই দেশের জন্যই অর্থনৈতিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি করে।
দ্রুত সমাধান না হলে কৃষক খাতের আয়হ্রাস এবং রপ্তানি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, শুল্ক প্রত্যাহার হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্গঠন সম্ভব, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা আনার দিকেও সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, মন্টানা ও নর্থ ডাকোটার সেনেটররা ট্রাম্পকে ভারতীয় শুল্কের পুনর্বিবেচনা এবং দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উভয় দেশের কৃষি ও রপ্তানি খাতের স্বার্থ রক্ষা পায় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ বাণিজ্যিক সংঘাত এড়ানো যায়।



