চট্টগ্রামের বোলখালী উপজেলার বেনগুরা গ্রামে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অভিযান চলাকালীন ৫১ বছর বয়সী সালাহুদ্দিন রুমি এবং ৫৬ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম বাপ্পি, মৃত আবুল বশরের পুত্র, দুজনকে গুলি ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানটি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
সেনা একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বেনগুরা গ্রাম পুকুরের তীরে সন্ধ্যা আটটায় উপস্থিত হয়। দুই ভাই স্থানীয়দের সঙ্গে পুকুরের তীরে বসে ছিলেন, যখন সেনাবাহিনীর দল উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
সেনা দলের উপস্থিতি বুঝে রুমি ও বাপ্পি পুকুরে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তবে দ্রুত অনুসরণে তারা ধরা পড়ে। মেজর রাসেল জানান, পুকুরের পানিতে লাফিয়ে যাওয়ার পরও তাদের গতি সীমিত হওয়ায় নিরাপদে পালাতে পারেননি।
অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে সেনা সংলগ্ন চারটি স্থানে রাতারাতি অনুসন্ধান চালায় এবং চারটি বিদেশি তৈরি শটগান, দুইটি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি গোলাবারুদ এবং বিশাল পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এই তথ্য মেজর রাসেল প্রধানের প্রেস রিলিজে প্রকাশিত হয়েছে।
সেনা জানায়, রুমি ও বাপ্পি বহু অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে গুলি তৈরির কাজ চালিয়ে আসছেন। তারা বোলখালী ও চট্টগ্রাম জুড়ে অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তাদের বড় ভাই বেলাল হোসেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উচ্ছেদিত সরকারের পতনের পর থেকে আত্মসাৎ অবস্থায় রয়েছেন। বেলাল হোসেনের গৃহহীনতা ও বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
বোলখালী থানা অফিসার ইন চার্জ মাহফুজুর রহমান জানান, সেনা গ্রেফতার করা দুই সন্দেহভাজনকে আজ সকালে পুলিশ হস্তান্তর করেছে। হস্তান্তরের পরই সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত তাদের জেলখানায় পাঠায়।
অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় তদন্তকারী দল অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে এবং গুলির উৎপাদন ও বিক্রয় জালকে ভেঙে ফেলতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ সংস্থার সমন্বিত কাজের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।



