ঢাকা, গুলশানের বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক অফিসে আজ বিকেলে যুক্তরাজ্য, নেপাল ও ভুটানের রায়দূতগণ তরিক রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন। গুলশান অফিসে তিনটি আলাদা সময়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকারে রায়দূতগণ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দু’পাশের সম্পর্কের উন্নয়নকে লক্ষ্য রাখেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন যে, আজ গুলশানের অফিসে তিনটি আলাদা রায়দূতগণ তরিক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সাক্ষাৎকারগুলোতে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রথমে নেপালের বাংলাদেশ রায়দূত, গ্যানশ্যাম ভান্ডারি, বিকেল ৪টায় তরিকের অফিসে প্রবেশ করেন। এই সময়ে বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আন্তর্জাতিক বিষয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ূন কবির এবং নেপালের দুজন মহিলা দায়িত্বশীল কর্মী উপস্থিত ছিলেন। রায়দূতগণ দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।
নেপালের রায়দূত গ্যানশ্যাম ভান্ডারির সঙ্গে তরিকের এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরেন। দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের দরজা খুলে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এরপর বিকেল ৪:৫৫টায় ভুটানের রায়দূত, দাশো কার্মা হামু দর্জি, গুলশানের অফিসে তরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আন্তর্জাতিক বিষয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ূন কবির এবং অন্যান্য পার্টি কর্মকর্তারা। রায়দূতগণ ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, পর্যটন ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় করেন।
ভুটানের রায়দূত দাশো কার্মা হামু দর্জি তরিককে জানান, ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক এবং দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্পের সূচনা সম্ভব হতে পারে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের মিটিংয়ের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখার কথা উল্লেখ করেন।
বিকেল ৫:৫৫টায় যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাই কমিশনার সারা কুক, তরিকের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য আমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ূন কবির। হাই কমিশনার কুক বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের বর্তমান অগ্রগতি এবং দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারা কুক তরিককে জানান, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বাণিজ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনটি আলাদা সাক্ষাৎকারে তরিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি শীর্ষ নেতারা, যার মধ্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ূন কবির অন্তর্ভুক্ত। এই নেতারা রায়দূতগণের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং পার্টির আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক কৌশলকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিএনপি এই রায়দূতগণকে পার্টির আন্তর্জাতিক সংযোগের শক্তিশালীকরণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বহুপাক্ষিক সমর্থন গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। রায়দূতগণও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই সাক্ষাৎকারগুলো দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত বহন করে। রায়দূতগণ তরিকের সঙ্গে সরাসরি আলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
সামনের দিনগুলোতে তরিকের সঙ্গে রায়দূতগণের এই সংলাপের ফলাফল কীভাবে দেশের কূটনৈতিক নীতি ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। তবে বর্তমান পর্যন্ত সব পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার এবং ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের দরজা খোলা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



