ফেনি-১ আসন থেকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু এবং জামাত‑ই‑ইসলামীর অ্যাডভোকেট এস.এম. কামাল উদ্দিনকে আজ নির্বাচনী তদন্ত ও বিচারিক কমিটি শো‑কজ নোটিশ প্রদান করেছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে উভয় প্রার্থী ফেসবুকের মাধ্যমে নির্বাচনী কোড লঙ্ঘন করে ভোটারকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
ফেনি-১ নির্বাচনী তদন্ত ও বিচারিক কমিটি, যার প্রধান সিভিল জজ মো. এহসানুল হক, এই নোটিশ জারি করার অনুমোদন দিয়েছেন। কমিটি নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু সম্পর্কে নোটিশে বলা হয়েছে যে তিনি ‘শস্যের গুঁড়ি’ প্রতীক ব্যবহার করে ভোটারকে আকৃষ্ট করার জন্য একটি যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ থেকে বারবার প্রচারমূলক পোস্ট প্রকাশ করেছেন। এই পেজের নাম ‘Rafiqul Alam Majnu’ এবং এতে ভোটারকে সমর্থন জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে জামাত‑ই‑ইসলামীর অ্যাডভোকেট এস.এম. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শো‑কজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘স্কেল’ প্রতীক ব্যবহার করে ভোটারকে সমর্থন জানাতে পোস্টার, ব্যানার এবং ভিডিওর মতো প্রচার সামগ্রী ফেসবুক পেজ ‘Advocate SM Kamal Uddin’ এবং ‘Jononeta Kamal Bhai – Feni-1’ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উভয় নোটিশেই উল্লিখিত হয়েছে যে প্রার্থীদের ২১ জানুয়ারি ফেনি-১ এর অস্থায়ী অফিসে উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। এই ব্যাখ্যা না দিলে কমিটি আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করতে পারে।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রার্থীদের শো‑কজ নোটিশের উত্তর না দিলে নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। শাস্তিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া, জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ফেনি-১ আসন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং দুই প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শো‑কজ নোটিশের ফলে উভয় দলের প্রচার কৌশল ও ভোটার সংযোগে প্রভাব পড়তে পারে।
প্রার্থীরা নোটিশে উল্লেখিত তারিখে উপস্থিত না হলে বা যথাযথ ব্যাখ্যা না দিলে, নির্বাচনী কমিশন ও বিচারিক কমিটি একত্রে সিদ্ধান্ত নেবে যে কোন প্রার্থীকে নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে কিনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন নির্বাচনের গতি পরিবর্তিত হতে পারে।
বিএনপি ও জামাত‑ই‑ইসলামীর উভয়ই এখন তাদের প্রচার কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করে নোটিশের শর্ত পূরণে মনোনিবেশ করতে হবে। একই সঙ্গে, ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রেখে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা তাদের জন্য কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
শো‑কজ নোটিশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, কমিটি ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ে উভয় প্রার্থীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে। উপস্থিতির পর তাদের লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা শোনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।



