প্রিমিয়ার লিগের একটি রোমাঞ্চকর ডার্বি ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পুরুষদের দল পুরুষদের সিটি দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে। শনিবার পুরনো ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইন্টারিম ম্যানেজার মাইকেল কারিকের দ্বিতীয় দায়িত্বকাল শুরু হয়, যেখানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গোলের মাধ্যমে হোম টিম বিজয় অর্জন করে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় দলই সতর্কতা বজায় রাখে, তবে কোনো গোলের সুযোগ তৈরি হয় না। মাঝামাঝি সময়ে ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক পদ্ধতি ধীরে ধীরে সিটিকে চাপিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে ফলাফল নির্ধারণ করে।
৬৫তম মিনিটে ব্রায়ান এমবেও, যিনি ক্যামেরুনের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস থেকে ফিরে এসেছেন, গোলের সুযোগ পেয়ে শটটি জালে পাঠায়। তার এই গোল ইউনাইটেডের প্রথম স্কোর হয়ে দাঁড়ায় এবং ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত বইয়ে দেয়।
প্রায় দশ মিনিট পর, প্যাট্রিক ডোরগুও ম্যাচে নাম লেখায়। মথেউস কুনহা এক ধারালো ক্রস দেন, যা ডোরগু হেড করে গলপোস্টের নিচে পাঠায়। এই গোলের মাধ্যমে ইউনাইটেডের সুবিধা দু’গোলে বাড়ে এবং ম্যাচের গতি সম্পূর্ণভাবে তাদের দিকে ঝুঁকে যায়।
সিটির গোলকিপার জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলের রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একাধিক শটকে রোধ করেন এবং তিনটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের পরেও তার সুরক্ষা বজায় রাখেন। তবে ডোনারুম্মার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সিটি কোনো গোল করতে পারেনি।
সিটির প্রধান আক্রমণকারী এরলিং হাল্যান্ডের শটের সুযোগও সীমিত ছিল; তিনি ম্যাচে প্রায় কোনো শটই নিতে পারেননি। সিটির আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা বেশিরভাগই ডিফেন্সের ঘনত্বের কারণে থেমে যায় এবং গোলের সুযোগে রূপান্তরিত হয় না।
এই ফলাফল সিটির শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধাক্কা দেয়। পূর্বে শিরোপা শীর্ষে আরসেনালের সঙ্গে তিন পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে চেয়েছিল সিটি, তবে এখন তাদের পয়েন্টের ফাঁক বাড়তে পারে। যদি আরসেনাল শনিবার নটিংহাম ফরেস্টকে পরাজিত করে, তবে সিটি আরসেনালের থেকে নয় পয়েন্ট পিছিয়ে থাকতে পারে।
ইউনাইটেডের জন্য এই জয় কারিকের দায়িত্বকালকে উজ্জ্বল সূচনা দেয়। ফলাফল অনুযায়ী দল অস্থায়ীভাবে লিগের চতুর্থ স্থানে উঠে আসে এবং শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। কারিকের আক্রমণমুখী কৌশল এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা দেয়।
পরবর্তী ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে লিভারপুলের সঙ্গে, যেখানে তারা শিরোপা লড়াইয়ে আরও পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি আরসেনালের সঙ্গে শিরোপা শিরোনামের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে।



