গণভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদেরকে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ সম্পর্কে সচেতন করে দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানিয়েছে।
ক্যাবিনেট বিভাগ ৩০ ডিসেম্বর তারিখে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রেরণ করে, যেখানে নির্বাচনের সময় কোনো অনীহা, অসহযোগিতা, শিথিলতা বা ভুল তথ্য প্রচার করা হলে আইন অনুযায়ী শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এ ধারা ৪-এ কর্মকর্তার চাকরির শর্তাবলী এবং ধারা ৫-এ শৃঙ্খলাবদ্ধ বিধানগুলো নির্ধারিত আছে; এই বিধানগুলো মেনে না চললে কঠোর শাস্তি আরোপিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগও ক্যাবিনেট বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে, তাদের অধীনস্থ সকল অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই নির্দেশনা প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন‑১) মো. খালিদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, মন্ত্রণালয়ের পত্রটি যথাযথভাবে পৌঁছেছে।
মো. খালিদ হোসেন জানান, ৯ জানুয়ারি তার দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনাপত্র পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সকল স্তরে আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও পত্রটি মাঠ পর্যায়ের সকল জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের, পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেককে আইন অনুসারে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের অনীহা বা তথ্য বিকৃতি ঘটলে তা নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৫ অনুসারে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি হবে।
এই নির্দেশনার লক্ষ্য হল নির্বাচন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের কাছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। সরকার উল্লেখ করেছে, আইন মেনে না চললে শাস্তি হিসেবে পদত্যাগ, বরখাস্ত বা অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের কঠোর নির্দেশনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াবে এবং সম্ভাব্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিরোধের ঝুঁকি কমাবে। একই সঙ্গে, সরকারি ও অ-সরকারি কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জোরদার হবে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে, সরকার বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ সেশন চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে প্রত্যেক কর্মী তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারে।
সর্বশেষে, ক্যাবিনেট সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরে প্রকাশিত চিঠিতে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচন কর্মকর্তার শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন অনুসরণ করা অপরিহার্য, এবং এর লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।



