আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রবাসী ও সরকারি কর্মীরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রায় ১৮ হাজার নিবন্ধিত ভোটার দেশের বাইরে থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, যা প্রথমবারের মতো ঘটছে।
স্থানীয় নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১৭,৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে ১০,৫৭৬ জন বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী এবং ৭,১০৭ জন দেশের অন্যান্য জেলায় সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত কর্মী অন্তর্ভুক্ত।
প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা নির্বাচনের আগে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের ভোটপত্র পাঠাতে পারবে। পোস্টাল ব্যালটের আবেদনকারী ভোটারদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে আপডেট করা হয়েছে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
প্রতিটি আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে পোস্টাল ব্যালটের জন্য অনুমোদন পেতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর, ভোটারকে ভোটপত্র ও সিল করা কভার পাঠানো হবে, যা তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকের মাধ্যমে নির্বাচনী অফিসে পাঠাবে। এই পদ্ধতি দেশের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের ভোটাধিকার ব্যবহারকে সহজতর করবে।
সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী শাকিল আহমেদ জানান, ত্রিশ দুই বছর পর প্রথমবারের মতো তিনি দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তিনি বলেন, এই সুযোগের মাধ্যমে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে গর্বিত।
দুবাইতে কর্মরত এসএম শাফায়েত উল্লাহ উল্লেখ করেন, মৌলিক অধিকার যেমন বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে তিনি সমর্থন করবেন। তিনি ভোটের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান।
বাকুল আহমেদও একইভাবে আশা প্রকাশ করেন, যে প্রবাসী ভোটারদের জন্য এমন একজন নেতা নির্বাচিত হবেন, যিনি তাদের সুবিধা ও সমস্যার প্রতি মনোযোগ দেবেন। তিনি বলেন, প্রবাসী সম্প্রদায়ের চাহিদা নীতি নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দরকার।
স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধি মানিক আকবর উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালট বিদেশে প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে এটি নতুন। তিনি ভবিষ্যতে এই পদ্ধতির প্রভাব কী হবে তা পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মঞ্জুরুল আলম মালিকও পোস্টাল ব্যালটের প্রয়োগে কিছু জটিলতা থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন, তবে তিনি বিশ্বাস করেন, প্রবাসী ভোটারদের সম্পূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন ব্যাখ্যা করেন, ভোটের কাগজপত্র পোস্টাল ব্যালটের জন্য নির্ধারিত ঠিকানায় সংগ্রহ করা হবে এবং ভোট গণনার দিন সকল প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, মিডিয়া কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বচ্ছভাবে গণনা করা হবে।
প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটের কভার ও সিলকৃত ব্যালটগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকে। এই ব্যবস্থা সাধারণ ভোটকেন্দ্রের মতোই কঠোর নিয়মের অধীনে পরিচালিত হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, প্রবাসী ও সরকারি কর্মীর এই বৃহৎ অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। পোস্টাল ব্যালটের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে অন্যান্য জেলা ও দেশের জন্য মডেল হতে পারে, যা নির্বাচনী অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়ক হবে।



