28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জেনেটিক প্রযুক্তি নিরাপদ ব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জেনেটিক প্রযুক্তি নিরাপদ ব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক লাইফ সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রজাতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি কৃষক, বিজ্ঞানী এবং নীতি নির্ধারকদের কাছে জোর দিয়ে বলছেন, কর্পোরেট স্বার্থের হস্তক্ষেপ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপদেষ্টা জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকা এবং জেনেটিক প্রযুক্তি নিরাপদভাবে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। যবিপ্রবি’র জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ এই ইভেন্টের আয়োজন করে, যেখানে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য এবং জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারকে কর্পোরেট স্বার্থের অধীনে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। জেনেটিক পরিবর্তন কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে এর মালিকানা ও অধিকার স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে নিশ্চিত করা দরকার। এভাবে স্থানীয় কৃষি ও জলজ সম্পদের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

স্থানীয় প্রজাতি রক্ষা এবং টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ও জলজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তিনি উল্লেখ করেন। জেনেটিক মডিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ বা প্রাণীকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে স্থানীয় প্রজাতি চাষকারী কৃষকরা তাদের অধিকার হারাতে পারেন।

মৎস্য উপদেষ্টা মাছকে শুধুমাত্র পুষ্টির উৎস নয়, ত্বকের যত্ন ও কসমেটিক পণ্যের উপাদান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো পণ্য তৈরি হলে তা সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত, যাতে সামাজিক সমতা বজায় থাকে।

বাংলাদেশের জলজ বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ, যা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশের ভিত্তি। উপদেষ্টা বিশেষভাবে স্থানীয় বাগদা চিংড়ির সাংস্কৃতিক ও স্বাদগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

কিছু মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভিয়েতনাম থেকে চিংড়ি পোনা আমদানি করার আবেদন করলেও, সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে দেশীয় বাগদা চিংড়ির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রজাতির সুরক্ষা এবং বিদেশি জিনের অনুপ্রবেশ রোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা শেষ করে বলেন, নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার, স্থানীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং কর্পোরেট স্বার্থের সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশে টেকসই কৃষি ও মৎস্য শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই দিকগুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

আপনার মতামত কী? জেনেটিক প্রযুক্তি কীভাবে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments