বোম্বে হাই কোর্টে ইরোস ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ২০২৬ সালে আনন্দ ল. রাই এবং তার প্রযোজনা সংস্থা কালার ইয়েলো মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট এলএলপি‑কে রাঞ্জনা’র ‘আধ্যাত্মিক সিক্যুয়েল’ হিসেবে তেরে ইশক মেইন প্রচার করার জন্য কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। ইরোস দাবি করে যে, এই চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযানে রাঞ্জনা’র নাম ও চরিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাদের অনুমোদন ছাড়া হয়েছে এবং ফলে তারা ৮৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাচ্ছে।
গত বছরই ইরোস ও রাইয়ের মধ্যে রাঞ্জনা’র (২০১৩) পুনঃপ্রকাশ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়, যখন ইরোস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবির শেষাংশ পরিবর্তন করে পুনরায় মুক্তি দেয়। সেই সময়ের মতই, এবার তেরে ইশক মেইন‑এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি টানাপোড়েন আবার তীব্রতর হয়েছে।
মামলায় রাইয়ের পাশাপাশি কালার ইয়েলো মিডিয়া, টি‑সিরিজ, স্ক্রিপ্টরাইটার হিমাংশু শর্মা এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইরোসের পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাঞ্জনা’র সমস্ত বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার, যার মধ্যে কপিরাইট, নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক, এবং ‘কুন্দন শংকর’ ও ‘মুরারি’ চরিত্রের অধিকার অন্তর্ভুক্ত, তাদেরই মালিকানা।
ইরোসের মতে, তেরে ইশক মেইন‑এর প্রচারমূলক ভিডিওতে ‘রাঞ্জনা’র জগত থেকে’ এমন লাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি রাঞ্জনা’র ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। এই ধরনের প্রকাশনা অনুমোদনহীন হওয়ায় ইরোসের বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
অধিকন্তু, তেরে ইশক মেইনের টিজার ভিডিওতে রাঞ্জনা’র কিছু দৃশ্য, পটভূমি সঙ্গীত এবং স্কোর ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইরোস অভিযোগ তুলেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ইরোস ইতিমধ্যে রাঞ্জনা’র সঙ্গীতের অধিকার থেকে সরে গিয়েছে, তবু নতুন ছবিতে সেই সুরের ব্যবহার অনুমোদনহীন বলে তারা দাবি করে।
চরিত্রের দিক থেকেও সমানতা দেখা যায়। উভয় ছবিতে মোহদ জিশান আইয়ুব ‘মুরারি’ চরিত্রে উপস্থিত হয়েছেন; ইরোসের পিটিশনে বলা হয়েছে যে, এই চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, বুদ্ধি ও গল্পে ভূমিকা উভয় ছবিতেই একই রকম। এই ধরনের অননুমোদিত পুনরুৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকে ইরোস স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মামলায় উল্লেখিত অন্যান্য পক্ষ, টি‑সিরিজ ও নেটফ্লিক্স, তেরে ইশক মেইনের বিতরণ ও স্ট্রিমিংয়ে যুক্ত হওয়ায় এই আইনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হিমাংশু শর্মা, যিনি ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, তাকে সহ-দায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইরোসের দাবিতে উল্লেখ আছে যে, রাঞ্জনা’র পুনঃপ্রকাশ, সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল ও রিমেকের সব অধিকারই তাদেরই, এবং তেরে ইশক মেইনের প্রচার ও মুক্তি এই অধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তাই তারা মোট ৮৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাচ্ছে, যা চলচ্চিত্র শিল্পে বৌদ্ধিক সম্পত্তি সুরক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরবে।
বোম্বে হাই কোর্টে দায়ের করা এই মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতের রায় কী হবে এবং এটি ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রের প্রচার, সিক্যুয়েল ও রিমেকের ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে তা শিল্পের সকল অংশীদার নজরে রাখবে।
এই বিরোধের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা, বিতরণকারী ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে বৌদ্ধিক সম্পত্তি সংক্রান্ত চুক্তি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার প্রতি অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করতে পারে।
বিনোদন জগতের এই আইনি সংঘর্ষের ফলাফল কেবলই নয়, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা, চরিত্র পুনরায় ব্যবহার ও সঙ্গীতের অধিকার সংক্রান্ত নীতি-নিয়মের পুনর্বিবেচনা ঘটাতে পারে।



