19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসলামী আন্দোলনের ৪৭ আসন জোটের বাকি দলগুলোর মধ্যে ভাগ হবে, জানালেন বাংলাদেশ...

ইসলামী আন্দোলনের ৪৭ আসন জোটের বাকি দলগুলোর মধ্যে ভাগ হবে, জানালেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝামাঝি, ইসলামি আন্দোলনের জন্য সংরক্ষিত ৪৭টি আসন কীভাবে বণ্টন হবে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রীমতী মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, শনিবার বিকেলে ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

মামুনুল হক জানান, ইসলামি আন্দোলনের আসনগুলো জোটের বাকি পার্টিগুলোর মধ্যে ভাগ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন বণ্টনের পদ্ধতি পূর্বে গৃহীত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকবে; অর্থাৎ, প্রতিটি আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তাকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বণ্টন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে, মামুনুল হক জামায়াতের নায়েব-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে আলাপ করেন। দুজনেই আসন বণ্টনের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয়মূলক আলোচনা চালান। উভয় পক্ষই একমত হন যে, জোটের অভ্যন্তরে সমতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় কোনো অনিচ্ছাকৃত সুবিধা না দেওয়া জরুরি।

আসন বণ্টনের শেষ ধাপটি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখের আগেই সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়। মামুনুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব আসন নির্ধারিত হলে, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রার্থী ছাড়া অন্য সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে। এভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় থাকবে।

প্রশ্ন ওঠে, ইসলামি আন্দোলনের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব পড়তে পারে। মামুনুল হক জোর দিয়ে বলেন, জোটের সকল দলই ঐক্যের আহ্বান মেনে চলেছে এবং কোনো দলই ঐ অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি। তাই, ইসলামি আন্দোলনের বিচ্ছেদে নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে আর কোনো আসন সমঝোতার সুযোগ নেই। যদিও আসন ভাগাভাগি করা হবে, তবে অতিরিক্ত কোনো চুক্তি করা সম্ভব না হওয়ায়, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জোটের অভ্যন্তরে পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

একই সময়ে, জামায়াতের ক্ষমতায় আসলে শারিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয়। মামুনুল হক ব্যাখ্যা করেন, দেশের বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে; একদিনে হঠাৎ করে শারিয়াহ আইন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি কোনো বিরোধ বা অসঙ্গতি প্রকাশ করে না।

মামুনুল হক আরও বলেন, সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নির্বাচনী ধাপের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে; তাই শারিয়াহ আইন বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধৈর্য্য প্রয়োজন। তিনি জোর দেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনো তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া উচিত।

সারসংক্ষেপে, ইসলামি আন্দোলনের জন্য সংরক্ষিত ৪৭টি আসন জোটের বাকি দলগুলোর মধ্যে ভাগ হবে, এবং এই বণ্টন প্রক্রিয়া পূর্বে গৃহীত পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকবে। আসন বণ্টনের শেষ ধাপটি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখের আগে সম্পন্ন হবে, এবং নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে অন্য সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে।

ইসলামি আন্দোলনের জোট থেকে বিচ্ছেদে নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব পড়বে না, তবে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। শারিয়াহ আইন বাস্তবায়নের প্রশ্নে, বর্তমান সংবিধানিক ও নির্বাচনী কাঠামো একদিনে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করা হয়।

এই ঘোষণার পর, জোটের অন্যান্য দলগুলোও আসন বণ্টন ও প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে, সকল দলই স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments