ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই শনি দিন একটি ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক প্রতিবাদে ঘটিত প্রাণহানি, সম্পত্তি ক্ষতি এবং অপবাদ ছড়ানোর দায়ী ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের ভিতরে সেডিশনিস্টদের কাজের ফলে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু অমানবিক ও নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে মারা গেছে।
খামেনেইর এই বক্তব্যের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “অপরাধী” বলে চিহ্নিত করে বলেছিলেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ করা উচিত। তিনি সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে শোষণ করা বলে দাবি করেন।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩,০৯০ জনের বেশি মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA এর তথ্য অনুযায়ী। এই সংখ্যার মধ্যে বহু মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে প্রাণহানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকারীদের ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন যে ইরানে গুলিবিদ্ধ হওয়া বন্ধ হয়েছে, তবে তিনি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেননি।
প্রারম্ভিক অর্থনৈতিক প্রতিবাদ থেকে শুরু হয়ে এখন আন্দোলন সুপ্রিম লিডারের শাসন শেষ করার দাবি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইরানি সরকার এই প্রতিবাদকে শত্রুদের সমর্থিত “দাঙ্গা” বলে চিহ্নিত করে এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবার ব্যাপক বন্ধের মাধ্যমে তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
প্রতিবাদে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছুটা শিথিলতা দেখা গেলেও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা বজায় থাকায় মাঠে কী ঘটছে তা স্পষ্ট নয়। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে হ্রাসের পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়েছে বলে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খামেনেইর ভাষণে তিনি ট্রাম্পকে “অপরাধী” বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তির জন্য দায়ী করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে শোষণ করা এবং তার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করা বলে দাবি করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেও তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিদ্ধের সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য স্বীকার করেন, তবে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেননি। তার এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দুটোই কাতারের আল-উদেইদ বিমানবেসে তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অধিকাংশ সূত্র জানায়, এই আংশিক প্রত্যাহারকে “প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমন্বয় এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমনমূলক নীতি পরস্পরের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্বের রেটোরিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া উভয়ই দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তির পরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



