শামসুন্নাহার জুনিয়র ফারাশগঞ্জের জন্য আবারও ম্যাচের মূল পার্থক্য তৈরি করেন। শনিবারের বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের ম্যাচে দলটি বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাবকে এক গোলের পার্থক্যে পরাজিত করে। শামসুন্নাহারই সেই একমাত্র গোলের মালিক, যা দলকে ধারাবাহিক পঞ্চম জয় এনে দেয়।
ফারাশগঞ্জের এই জয়টি ১-০ স্কোরে শেষ হয়, যেখানে আর্মি দলের গোলরক্ষক মিলা আক্তারকে শামসুন্নাহার শক্তিশালী বাম পায়ের শটের সামনে কোনো সুযোগ না থাকে। ম্যাচটি কিলাপুরের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রথমার্ধে উভয় দলই প্রতিরক্ষামূলক খেলা দেখায়।
দ্বিতীয়ার্ধে শামসুন্নাহার একটি তীক্ষ্ণ কোণ থেকে দূর থেকে বাম পা দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে মিলা আক্তারের গলপোস্টে বলটি গেঁথে যায়। শটটি ছিল দীর্ঘ দূরত্বের এবং কোণার দিক থেকে কঠিন, তবু বলটি গলপোস্টের নিচে দিয়ে গিয়ে স্কোরবোর্ডে এক যোগ করে। এই গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ফারাশগঞ্জকে অগ্রগতি দেয়।
গোলের পর আর্মি দলকে লাল কার্ডের মাধ্যমে দশজন খেলোয়াড়ে নামিয়ে দেয়, ফলে তারা আক্রমণাত্মকভাবে ফিরে আসতে পারে না। রেড কার্ডের ফলে দলটি প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে সংগ্রাম করে এবং স্কোরে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।
শামসুন্নাহারকে এই ম্যাচে পঞ্চম ধারাবাহিকভাবে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ উপাধি প্রদান করা হয়। এটি তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি, কারণ তিনি পূর্বের চারটি ম্যাচেও একই সম্মান পেয়েছেন। ফারাশগঞ্জের পঞ্চম জয় এবং শামসুন্নাহারের ব্যক্তিগত সাফল্য উভয়ই দলকে লিগে শক্ত অবস্থানে রাখে।
খেলোয়াড়টি নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “লিগে এবং জাতীয় পর্যায়ে আমার বেশিরভাগ গোল হেডার থেকে আসে, যা আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। তবে এই কঠিন ম্যাচে আমি যে গোলটি করলাম, তা আমার সর্বোত্তম বলে আমি মনে করি। পাঁচটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ জেতা আমার জন্য বিশেষ গর্বের বিষয়।” তার এই কথা দলীয় আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
শামসুন্নাহার জুনিয়র এখন পর্যন্ত লিগের পাঁচটি ম্যাচে মোট উনিশটি গোলের রেকর্ড তৈরি করেছেন, যা তার আক্রমণাত্মক দক্ষতার স্পষ্ট প্রমাণ। এক ম্যাচে একাধিক গোল করার তার ক্ষমতা ফারাশগঞ্জের আক্রমণকে শক্তিশালী করে তুলেছে এবং লিগের শীর্ষ স্কোরার তালিকায় তাকে স্থান দিয়েছে।
ফারাশগঞ্জের ধারাবাহিক জয় এবং শামসুন্নাহারের গোলের ধারাবাহিকতা দলকে লিগের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখতে সহায়তা করবে। দলটি এখন পর্যন্ত পাঁচটি জয় অর্জন করেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। লিগের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
এই ম্যাচের ফলাফল এবং শামসুন্নাহারের অসাধারণ পারফরম্যান্স নারী ফুটবলের উত্সাহ বাড়িয়ে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উত্থানকে উৎসাহিত করবে।



