ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহন বিভাগ শনিবার বিকাল ১ টার (০৬০০ GMT) পরে যাত্রা শুরু করা একটি ছোট টার্বোপ্রপ বিমান থেকে যোগাযোগ হারিয়ে যাওয়ায়, ১১ জন (৩ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু) অন্তর্ভুক্ত যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
বিমানটি যোগ্যাকার্তা থেকে মাকাসার, সুলাওয়েসি দ্বীপে গন্তব্যে উড়ে যাওয়ার পথে শেষবার রেডিওতে সিগন্যাল পাঠায়। শেষ জানা অবস্থান ছিল মারোস রেজেন্সি, মাকাসারের সীমানা পার্বত্য অঞ্চলে, যেখানে অনুসন্ধান দলগুলোকে দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনওয়ার জানান, রেডিও সংযোগ হারানোর পরপরই পাহাড়ি এলাকায় দল পাঠানো হয় এবং ভূমি ও আকাশ উভয় দিক থেকে অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে।
অনুসন্ধান কর্মে ইন্দোনেশিয়া বিমানবাহিনী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নিচ্ছেন। মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার অপারেশন প্রধান আন্দি সুলতান উল্লেখ করেন, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে বিমানটির অবশিষ্টাংশ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ফ্রান্স ভিত্তিক এয়ারক্রাফ্ট নির্মাতা এটিআর (ATR) কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের একটি টার্বোপ্রপ মডেল সংক্রান্ত “একটি দুর্ঘটনা” সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
ইন্দোনেশিয়া, যা হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি বিশাল আর্কিপেলাগো, দেশের অভ্যন্তরীণ সংযোগের জন্য বিমান পরিবহন অপরিহার্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিমান নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর, দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার উড্ডয়নের পরেই ধসে ৮ জনের মৃত্যু ঘটায়। দুই সপ্তাহের কম সময়ে পাপুয়া প্রদেশের ইলাগা জেলায় আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণ ত্যাগ করে। এই ঘটনাগুলো ইন্দোনেশিয়ার বিমান নিরাপত্তা রেকর্ডকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এবং এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনাকে নজরে রেখে, ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রস্তাব করেছে। এক আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ইন্দোনেশিয়ার আকাশে চলাচল করা হাজার হাজার দ্বীপের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গ্লোবাল এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।”
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর, ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অনুশীলন চালু করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কূটনৈতিক স্তরে উভয় দেশের বিমান নিরাপত্তা নীতি সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করবে।
বর্তমানে, অনুসন্ধান দলগুলো ড্রোনের রিয়েল-টাইম চিত্র ও হেলিকপ্টার পাইলটের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নির্ধারণে কাজ করছে। এটিআর বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রাথমিক বিশ্লেষণ চালু হয়েছে, এবং ইন্দোনেশিয়ার বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পর, ইন্দোনেশিয়ার সরকার বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার পাশাপাশি, দূরবর্তী অঞ্চলে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের কথা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারিতে, দেশটি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদ আকাশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



