22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩৩০ জনকে শহরে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩৩০ জনকে শহরে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (CMP) আজ বিকেলে ৩৩০ জন ব্যক্তিকে ‘অসদাচরণকারী’ বলে চিহ্নিত করে, তাদেরকে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ ও অবস্থান থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের নথি CMP কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরে প্রকাশিত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮-এর ধারা ৪০, ৪১ এবং ৪৩ অনুযায়ী, শহরের সীমার মধ্যে বর্তমানে উপস্থিত ‘অসদাচরণকারী’ ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ বহিষ্কারের অধিকার রয়েছে। এই বিধানগুলো পুলিশকে জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা পরবর্তী কোনো নোটিশ না আসা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে প্রবেশ বা বসবাস করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনি শাস্তি দেওয়া হবে, যা সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

তালিকাটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে শীর্ষ সশস্ত্র সন্ত্রাসী, ডাকাত, নিষিদ্ধ চাট্রা লীগ নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সংসদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে কারাগারে বন্দী অবস্থায় আছেন, তবু তাদের নাম এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল সজ্জাদ আলি খান, যাকে ‘বড় সজ্জাদ’ নামে পরিচিত, এবং সজ্জাদ হোসেন, যাকে ‘ছোট সজ্জাদ’ বলা হয়। উভয়ই দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রী মোহিবুল হাসান নওফেলের নামও রয়েছে। তিনি পূর্বে সরকারের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে বর্তমানে তিনি অপরাধমূলক অভিযোগের মুখে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

অধিকন্তু, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ এবং মোহিউদ্দিন বাচ্চু নামেও তালিকায় দেখা যায়। এই তিনজনই পূর্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালিকায় এমনও নাম রয়েছে যারা ৫ আগস্টের পরে দেশ ত্যাগ করে গেছেন। এই ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি হুমকি স্বরূপ বিবেচিত হয়েছে এবং তাদের পুনরায় দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

ইস্কন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি ধর্মীয় সংগঠনের উচ্চপদস্থ সদস্য, তবে তদন্তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারা ৪০, ৪১ এবং ৪৩ অনুযায়ী পুলিশকে ‘অসদাচরণকারী’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের শহরের সীমা থেকে বহিষ্কারের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। এই বিধানগুলো মূলত জননিরাপত্তা রক্ষা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিস্তার রোধের জন্য প্রণীত।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী যে কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে অপরাধমূলক দায়িত্বের মুখে পড়বেন। পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীকে গ্রেফতার করবে এবং আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ভবিষ্যতে তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুসারে নতুন নাম যুক্ত বা বাদ দিতে পারে। নাগরিকদেরকে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments