চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ১৯৭৮ সালের অপরাধবিধির ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী মহানগর এলাকায় সক্রিয় দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর সদস্যদের চট্টগ্রাম শহর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পর, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সকল সদস্যকে চট্টগ্রাম মহানগরে প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।
বিধি অনুসারে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
পুলিশের মতে, এই পদক্ষেপটি আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমন জোরদারের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যাতে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে।
বহিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরে অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে, যার ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে।
পুলিশের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে, শহরের বিভিন্ন থানা ও টহল ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো সদস্যকে সনাক্ত করলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করবে এবং প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর থাকবে।
এদিকে, গত বছর ১১ নভেম্বরের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্রাস্ট ফায়ার মোডে শুটিংয়ের নির্দেশ দেন।
কমিশনারের নির্দেশে, শটগান ও চীনা রাইফেল ব্যবহার না করে, শুধুমাত্র এসএমজি (সাব-মেশিন গান) এর ব্রাস্ট ফায়ার মোডে গুলি চালানোর আদেশ দেওয়া হয় এবং এই সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজে নেবেন বলে জানান।
এই নির্দেশের পর, সংশ্লিষ্ট থানা ও টহল সদস্যদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা নির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার না করে, নির্ধারিত মোডে শুটিং চালানোর জন্য প্রস্তুত হয়।
কমিশনারের এই নির্দেশনা নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল, যা পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
বহিষ্কার ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, পুলিশ জানিয়েছে যে, বর্তমানে দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এই টাস্ক ফোর্সের কাজের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের চলাচল ট্র্যাক করা, তাদের আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান করা এবং অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।
পুলিশের মতে, গোষ্ঠীর সদস্যদের চট্টগ্রাম মহানগরে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে, শহরের অপরাধ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা বর্ধিত হবে।
বহিষ্কার আদেশের পর, পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর রয়েছে।
অধিকন্তু, পুলিশ জানিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, চট্টগ্রাম মহানগরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং শহরের বাসিন্দারা নিরাপদ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারবেন।
পুলিশের প্রকাশ্য বিবৃতি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো নতুন দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠী চিহ্নিত হলে, একই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, পুলিশ জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে যে, কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা গোষ্ঠীর সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা বা হটলাইন নম্বরে জানাতে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এই পদক্ষেপটি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা জনসাধারণের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



