উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে তিনি আর পাঁচ বছর দেশের শীর্ষে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তিনি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আবারও ৪০ বছরের শাসন ধারায় স্থিত করে।
নির্বাচন কমিশন মুসেভেনির জয়কে নিশ্চিত করে, তবে তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী ববি ওয়াইন ফলাফলকে ‘নকল’ বলে খণ্ডন করেছেন। ওয়াইন দাবি করেন যে ভোটের ফলাফল বিকৃত এবং তিনি ফলাফলকে অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করছেন। তিনি জনগণকে নিরহিংসা প্রতিবাদে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
ববি ওয়াইন, ৪৩ বছর বয়সী প্রাক্তন পপ স্টার, ফলাফলকে ‘নকল’ বলে চিহ্নিত করে তৎকালীন সমাবেশে তার সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ রাস্তায় বের হতে নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ভোটের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
মুসেভেনি, ৮১ বছর বয়সী, ১৯৮৬ সালে বিদ্রোহী নেতা হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এবং এরপর থেকে সাতটি জাতীয় নির্বাচন জয় করেছেন। তার শাসনকাল উগান্ডার আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসন হিসেবে বিবেচিত।
এই নির্বাচনের সময় সহিংসতা বেড়েছে, যার ফলে ববি ওয়াইন কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু দাবি করছেন। সরকারী সূত্রে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে পারস্পরিক বিরোধ এখনও বিদ্যমান।
মঙ্গলবার থেকে দেশের ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সরকার বলছে, তথ্যের ভুল প্রচার, ভোটের জালিয়াতি এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়া রোধে এই পদক্ষেপটি জরুরি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এই ইন্টারনেট বন্ধকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে সমালোচনা করেছে। তারা ইন্টারনেটের অপ্রাপ্যতা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ববি ওয়াইন ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার দাবি তীব্রভাবে প্রকাশ করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন তথ্যের প্রবাহ বন্ধ হলে জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
মুসেভেনির পুনর্নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শাসনের ধারাবাহিকতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে এখনো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিকল্পনা চলছে, তবে ইন্টারনেটের অপ্রাপ্যতা তাদের সংগঠন ও সমন্বয়কে কঠিন করে তুলছে। সরকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্য যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের দিকে সংবাদ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদনকে সীমিত করেছে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে উগান্ডার রাজনৈতিক পরিবেশ কীভাবে গড়ে উঠবে তা নজরে থাকবে, বিশেষ করে ববি ওয়াইনের নেতৃত্বে বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া। পরিস্থিতি উন্নত হলে নতুন তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা থাকবে।



