ঢাকা‑উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসভবনে গত শুক্রবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লার রাব্বি পরিবার থেকে তিনজন অন্তর্ভুক্ত। মৃতদের পরিবারকে আজ শনিবার জানাজার নামাজের পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে সমাধিস্থ করা হয়।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী, ৩৮ বছর বয়সী, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা, ৩৭ এবং তাদের দুই বছর বয়সী একমাত্র সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশান। ফজলে রাব্বি ও তার স্ত্রী উভয়ই স্থানীয় একটি ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। দাফনের সময় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে শোকের পরিবেশ বজায় থাকে, যদিও মৃতদের বাড়িতে এখনও শোকের মেঘ ঘেরা আছে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের সময়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা মোট ষোলো জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়, যার মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে তিনজন রাব্বি পরিবারের সদস্য, অন্য তিনজনের পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
দাহের কারণ নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং আগুনের মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য ফায়ার ইনভেস্টিগেশন টিমকে নিয়োগ করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত কাজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, তবে সম্পূর্ণ তদন্তের পরই চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ মৃতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করার কথা জানিয়েছে। কুমিল্লা জেলার উপজেলা পরিষদও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি তহবিল গঠন করেছে। একই সঙ্গে, ফায়ার সার্ভিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাহের সময় গৃহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গৃহমালিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত পরিবারটি রাতের শেষ ভাগে ঘুমিয়ে ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সূচনা সুনির্দিষ্ট সময়ে ঘটেছে, তবে সঠিক সময় এখনও তদন্তের অধীনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তার তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে তারা দ্রুতই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদে বের করে আনে।
এই ঘটনার পর, ঢাকা শহরের বিভিন্ন গৃহমালিক ও বাসিন্দা গৃহ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সরকার গৃহমালিকদের জন্য অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রপাতি, ধোঁয়া সনাক্তকারী এবং জরুরি বের হওয়ার পথের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়া, গৃহে অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অবশেষে, মৃতদের পরিবারকে শোকের সময়ে সমর্থন জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দাহের শিকার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের জন্য এই কঠিন সময়ে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সকল স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।



