সেনেগাল জাতীয় দল রাবাতের মরোক্কো স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস (AFCON) ফাইনালের জন্য প্রস্তুত, যেখানে কোচ পাপে থিয়াও প্রকাশ করেছেন যে তারা আশা করছেন লেজেন্ডারি ফরোয়ার্ড সাদিও মানে এই ম্যাচকে তার টুর্নামেন্টের শেষ হিসেবে না গৃহীত হয়।
থিয়াও জোর দিয়ে বললেন, মানের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কেবল তার হাতে নয়; পুরো জাতি তার পিঠে দাঁড়িয়ে আছে এবং সবাই চান তিনি সিলের সাথে তার যাত্রা চালিয়ে যান।
৩৩ বছর বয়সী মানে বুধবারের সেমি‑ফাইনালে মিশরের বিরুদ্ধে গেম জিতিয়ে গোল করার পর জানিয়েছিলেন যে তিনি আর কোনো AFCON-এ খেলবেন না।
এই মন্তব্যের ভিত্তিতে অনুমান করা যায়, তিনি বিশ্বকাপের পরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সম্পূর্ণভাবে পদত্যাগের কথা ভাবছেন, যেহেতু বিশ্বকাপের সময় তিনি ৩৪ বছর বয়সী হবেন।
পরবর্তী আফকন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে এবং কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডা একসাথে হোস্ট করবে, যা মানের জন্য সম্ভবত শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে আরেকটি বড় মঞ্চ হতে পারে।
থিয়াও স্পষ্ট করে বললেন, মানের সিদ্ধান্ত তাপের মুহূর্তে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের মতামত তা সমর্থন করে না; কোচ হিসেবে তিনি নিজেও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
তিনি যোগ করেন, সিলের ফেডারেশন যতদূর সম্ভব মানেকে দলের সঙ্গে রাখতে চায়, কারণ তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব অমূল্য।
মানে ২০২২ সালে সেনেগালের প্রথম আফকন জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যেখানে তিনি ইজিপ্টের বিরুদ্ধে শুট‑আউটে জয়ী পেনাল্টি গুলি করে শিরোপা নিশ্চিত করেন।
এছাড়া তিনি ২০১৯ সালের ফাইনালে আলজেরিয়ার হাতে পরাজিত হওয়া ম্যাচেও অংশ নেন, যা সেনেগালের চারটি টুর্নামেন্টের মধ্যে তৃতীয় ফাইনাল উপস্থিতি।
ডিফেন্ডার মৌসা নিয়াখাতে মানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি এমন এক অসাধারণ খেলোয়াড় যিনি বালন ডি’অর জেতার যোগ্যতা রাখতেন, তবু তার অহংকার কম এবং দেশপ্রেমে পূর্ণ।
নিয়াখাতে আরও উল্লেখ করেন, মানের ছয়টি আফকন অংশগ্রহণ তার দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ, যা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা।
সেনেগাল দল শুক্রবার রাবাতে পৌঁছানোর সময় যে স্বাগত পেয়েছিল তা নিয়ে কোচের অসন্তোষ প্রকাশ পায়; তারা ট্যাংগিয়ার বন্দর শহরে বসে ছিল এবং রাবাতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিবেশের মুখোমুখি হয়।
দলটি ট্যাংগিয়ার থেকে রাবাতের হোটেলে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও কিছু লজিস্টিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, যা কোচের মন্তব্যে উঠে এসেছে।
সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও দলকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রেখেছে এবং খেলোয়াড় ও স্টাফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ফাইনাল ম্যাচের সময়সূচি শনিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত, যেখানে সেনেগাল মরোক্কোর বিরুদ্ধে শিরোপা রক্ষা করার চূড়ান্ত লড়াইয়ে লিপ্ত হবে।
উভয় দলই টুর্নামেন্ট জুড়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে; মরোক্কো হোস্ট দেশ হিসেবে ঘরে ঘরে সমর্থন পেয়ে আত্মবিশ্বাসী, আর সেনেগাল অভিজ্ঞতা ও ত্রুটিহীন কৌশল নিয়ে মাঠে নামবে।
সেনেগালের ভক্তরা, দেশীয় ও বিদেশে বসবাসকারী সমর্থকসহ, এই ম্যাচের ফলাফলকে প্রত্যাশা করছেন, কারণ এটি দেশের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হতে পারে।
যদি সেনেগাল জয়লাভ করে, তবে তারা ২০২২ সালের বিজয়কে পুনরায় নিশ্চিত করবে এবং আফ্রিকান ফুটবলে তাদের আধিপত্যকে শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, যদি মরোক্কো শিরোপা জিতে, তবে হোস্ট দেশ হিসেবে তাদের প্রথম আফকন শিরোপা অর্জনের স্বপ্ন পূরণ হবে।
মানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও ম্যাচের পরের দিনগুলোতে তীব্র হবে; তার সেমি‑ফাইনাল পরবর্তী মন্তব্য ইতিমধ্যে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের ইঙ্গিত দিয়েছে।
কোচ থিয়াও ম্যাচের ফলাফল পর্যালোচনা করে দলের পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন, যার মধ্যে খেলোয়াড়দের অবসর ও নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সেনেগাল আফ্রিকান ফুটবলের ধারাবাহিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে, এবং মানের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।
ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, ফেডারেশন এবং কোচিং স্টাফের কাছ থেকে মানের অবসর বা অব্যাহত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার হয়।
সর্বোপরি, রাবাতে অনুষ্ঠিত এই চূড়ান্ত ম্যাচটি শুধুমাত্র শিরোপা নির্ধারণই নয়, বরং সেনেগালের ফুটবল ঐতিহ্য ও মানের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের সম্ভাবনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।



