ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয় নম্বর তলায় অবস্থিত শিশু ওয়াডে আজ বিকেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের সূত্রপাত প্রায় বিকাল ৪:৪০ টার দিকে হয়, এবং তা এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে নেওয়া যায়। কোনো প্রাণহানি বা আঘাতের রিপোর্ট নেই, এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকিৎসা কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রোগীদের নিরাপদে স্থানান্তর করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও পরিষ্কার হয়নি; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. মো. জাকিয়ুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে কোনো মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং রোগীদের নিরাপদে বের করা হয়েছে।
আগ্নিকাণ্ডের সময় শিশুর ওয়াডে এবং অন্যান্য তলায় থাকা রোগীদের দ্রুত খালি করা হয়। হাসপাতালের কর্মীরা জরুরি পরিকল্পনা অনুসারে রোগীদের নিরাপদ পথে বের করে নিয়ে যান এবং অস্থায়ীভাবে অন্য ওয়াডে স্থানান্তর করেন। এই প্রক্রিয়ায় রোগীদের কোনো স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হয়নি।
পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, যিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা ১৫ জন কিডনি রোগীর ডায়ালিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্কেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা রোগীদের নিরাপদে বের করে নিয়ে গিয়ে ওয়াডটি ত্যাগ করেন। রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর, নার্স টিম দ্রুত অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর পূর্ণচন্দ্র মুতসুদি জানান, ময়মনসিংহ এবং ত্রিশাল থেকে মোট আটটি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার ফাইটাররা দ্রুত অগ্নি নিভিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে এবং এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি; তদন্ত চলমান রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবনের বৈদ্যুতিক সিস্টেম, গ্যাস লিক বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করা এখনো বাকি।
হাসপাতালের প্রশাসন রোগী ও তাদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হবে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি এবং সব চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখে হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সমন্বয় কাজ রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
আপনার মতামত কী? হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার কী ধারণা আছে, তা মন্তব্যে জানিয়ে দিন।



