কপেনহেগেনের রাস্তায় শনিবার হাজারো নাগরিক একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরোধে প্রতিবাদ জানায়। এই প্রতিবাদটি গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্পের শুক্রবারের মন্তব্যে তিনি গ্রিনল্যান্ডের সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করে, বিরোধী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। এই সতর্কতা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে।
প্রতিবাদের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিপাক্ষিক দল কপেনহেগেনে সফর করে, যা ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করে এমন আমেরিকানদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে। এই সফর ও প্রতিবাদ একসাথে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নীতি নিয়ে গৃহস্থালি ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তীব্র করে তুলেছে।
প্রতিবাদকারীরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পতাকা উড়িয়ে, লাল-সাদা রঙের ঢেউ তৈরি করে কপেনহেগেন সিটি হলের সামনে সমবেত হয়। তারা গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব ভাষায় “Kalaallit Nunaat!” চিৎকার করে, যা দ্বীপের নামের গর্ব প্রকাশ করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পূর্বেই জানানো হয়েছিল যে গ্রিনল্যান্ডের সমিতিগুলি কপেনহেগেন, আরহুস, অলবোর্গ, ওডেন্সে এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরে সমানুপাতিক র্যালি ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
ডেনমার্কে বসবাসকারী গ্রিনল্যান্ডীয়দের সমিতি উগাটের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য হল গ্রিনল্যান্ডের গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা পৌঁছানো।
একই সময়ে নুক-এ বিকাল ৪টায় (১৫০০ GMT) একটি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটের সামনে গ্রিনল্যান্ডীয় পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ করবে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের “অবৈধ পরিকল্পনা”কে নিন্দা করে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার আহ্বান জানাবে।
কপেনহেগেনের র্যালি দুপুর ১২টায় (১১০০ GMT) শুরু হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে থামার পরিকল্পনা থাকে। র্যালির সময় অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে মঞ্চে উঠে তাদের মত প্রকাশ করে, কোনো সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট নেই।
উগাটের চেয়ারপার্সন জুলি রেডাম্যাচার সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডীয়দের উপর চাপ বাড়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি উত্তেজনা বাড়লে সমস্যার সমাধান না হয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করে, উভয় দেশের গ্রিনল্যান্ডীয়দের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এই প্রতিবাদটি ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন সংবিধানিকভাবে ডেনমার্কের অংশ, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের জনমত প্রকাশ ট্রাম্পের নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে ধাবিত করতে পারে, অথবা ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত কোনো পদক্ষেপের আগে দু’দেশের মধ্যে আরও আলোচনা ও সমঝোতা হওয়া সম্ভব।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নাগরিক ও সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তারা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও মানবাধিকারের রক্ষার জন্য ধারাবাহিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।



