22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ইনডিউসড কোমা, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মার্টিনের চমকপ্রদ সেরে ওঠা

মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ইনডিউসড কোমা, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মার্টিনের চমকপ্রদ সেরে ওঠা

২৬ ডিসেম্বর, ৫৪ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মার্টিনের জন্য একটি ভয়াবহ দিন ছিল। গোল্ড কোস্টের একটি হাসপাতালে মেনিনজাইটিস নির্ণয় হওয়ার পর তাকে জরুরি ভর্তি করা হয় এবং রোগের তীব্রতা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা ইনডিউসড কোমায় রাখেন। প্রায় আট দিন পর, মার্টিন ধীরে ধীরে কোমা থেকে বেরিয়ে আসেন, যদিও তখন তিনি হাঁটতে বা কথা বলতে পারছিলেন না।

মেনিনজাইটিস মস্তিষ্কের আবরণীর প্রদাহ, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবীর সংক্রমণের ফলে হতে পারে এবং অত্যন্ত গুরুতর রোগ হিসেবে বিবেচিত। মার্টিনের ক্ষেত্রে রোগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যাওয়ায় ইনডিউসড কোমা বেছে নেওয়া হয়, যাতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধের মাধ্যমে রোগীর অচেতন অবস্থা বজায় রাখা যায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায় এবং চিকিৎসকরা তাকে কোমা থেকে মুক্তি দেন।

মার্টিনের দ্রুত সেরে ওঠা তার পরিবার, বন্ধু এবং চিকিৎসক উভয়েরই বিস্ময়করভাবে গ্রহণযোগ্য হয়। রোগের সময় তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, যিনি মার্টিনের সঙ্গে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায়ও খেলেছেন। গিলক্রিস্টের মতে, মার্টিনের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া তার শারীরিক দৃঢ়তা এবং মানসিক সংকল্পের ফল।

সপ্তাহের শেষে মার্টিনকে হাসপাতালে থেকে ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি নিজের বাড়ি থেকে পুনরুদ্ধারের শেষ ধাপগুলো সম্পন্ন করছেন এবং স্বাস্থ্যের পূর্ণতা ফিরে পেতে নিয়মিত শারীরিক থেরাপি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রথমবারের মতো লিখে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০-৫০ ছিল বলে উল্লেখ করেন এবং ইনডিউসড কোমা থেকে বেরিয়ে আসার পর চার দিন পর হাঁটা ও কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন।

মার্টিনের পোস্টে তিনি তার পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ঘরে ফিরে সমুদ্রসৈকতে বালির ওপর পা রাখতে পারা, এবং যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানাতে পারা আমাকে অদ্ভুত আনন্দ দিচ্ছে।” এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং সময়ের মূল্য সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি এনে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে মার্টিনের অবদান অপরিসীম। তিনি ১৯৯৯ এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জয়লাভের অংশ ছিলেন। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ৬৭টি টেস্ট ম্যাচে গড়ে ৪৬.২৭ রান করে মোট ৪,৪০৬ রান সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে ১৩টি সেঞ্চুরি এবং ২৪টি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স রয়েছে। এছাড়া, ২০৮টি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচে গড়ে ৪০.৮০ রান করে ৫,৩৪৬ রান করেছেন। তার ব্যাটিং গড় এবং ধারাবাহিকতা তাকে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের মধ্যে একটি মাইলফলক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

মার্টিনের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং তার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কৃতজ্ঞতা, তার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। তিনি ভবিষ্যতে আবার মাঠে ফিরে না আসলেও, তার অভিজ্ঞতা এবং অর্জন তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে মার্টিনের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্টিনের বন্ধু এবং সহকর্মীরা তার স্বাস্থ্যের উন্নতি নিয়ে আশাবাদী এবং তাকে শীঘ্রই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখতে প্রত্যাশা করছেন।

মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর রোগের পরেও মার্টিনের পুনরুদ্ধার ক্রীড়া জগতের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ, যা দেখায় যে সঠিক চিকিৎসা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সমর্থন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে কঠিন সময়কে অতিক্রম করা সম্ভব। তার গল্প কেবল তার নিজস্ব জীবনের নয়, বরং সকল রোগী এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি প্রেরণাদায়ক বার্তা বহন করে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments