শফিক রেহমান, প্রাক্তন “যাইযাইদিন” প্রকাশকের এবং বহু দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাংবাদিক, শনিবার ঢাকার এক সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে দেশের মিডিয়া পেশা এখনও সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাজের মূল্যায়ন ও সুরক্ষা যথাযথ না হলে এই ক্ষেত্রের সংকট আরও বাড়বে।
রেহমানের বক্তব্যের পটভূমি হল সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর বাড়তে থাকা হুমকি, শারীরিক আক্রমণ এবং আইনি চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গৃহহিংসা, আটক ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠে এসেছে, যা পেশার মর্যাদা হ্রাসের মূল কারণ।
এই উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, মিডিয়া নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা বিষয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, যদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ ও স্ব-সেন্সরশিপের হার বাড়তে পারে, ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনগত কাঠামো সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যথেষ্ট নয়। তারা প্রস্তাব করেন, অপরাধমূলক আইনে সংশোধনী আনা, হুমকি ও আক্রমণের জন্য দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং মিডিয়া সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র তদারকি সংস্থা গঠন করা দরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়েছে যে, দেশের প্রেস ফ্রিডম উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতি চালু রয়েছে এবং আইন প্রয়োগে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে রেহমান ও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবায়নে গ্যাপ রয়ে গেছে এবং তা দ্রুত পূরণ করা জরুরি।
রেহমানের বক্তব্যের পর, সাংবাদিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীও সমর্থন জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করে, সাংবাদিকতা যদি সত্যিকারের সম্মানজনক পেশা হতে চায়, তবে নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক স্বীকৃতির সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এই আলোচনার মধ্যে, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোও ভূমিকা রাখছে। রেহমান উল্লেখ করেন, অনলাইন হুমকি ও গুজবের বিস্তার সাংবাদিকদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কাজের গুণগত মানকে প্রভাবিত করছে। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সাইবার সুরক্ষার ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, সাংবাদিকতার সম্মানজনক পেশা না হওয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি সূচক। তারা যুক্তি দেন, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
রেহমানের মতামতকে সমর্থন করে, একাধিক গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে যেখানে সাংবাদিকদের ওপর হিংসা ও আইনি বাধা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রেকর্ড করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো সরকারকে নীতি পুনর্বিবেচনা ও বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানায়।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, রেহমানের মন্তব্যের প্রভাব রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা বাড়বে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হবে।
সামগ্রিকভাবে, শফিক রেহমানের বক্তব্য এবং বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা বাংলাদেশের মিডিয়া পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নির্দেশ করে। এটি সরকার, নাগরিক সমাজ এবং মিডিয়া সংস্থাগুলোর জন্য একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যাতে সাংবাদিকতা সত্যিকারের সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।



