22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসিমিন রহমানের শেয়ার জালিয়াতি মামলায় চার্জশিট দাখিল, আদালতে শোনানির তারিখ নির্ধারিত

সিমিন রহমানের শেয়ার জালিয়াতি মামলায় চার্জশিট দাখিল, আদালতে শোনানির তারিখ নির্ধারিত

ডিসেম্বর ২০২০-তে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪,১৬০টি শেয়ারকে নিজের স্বার্থে দখল করার অভিযোগে লতিফুর রহমানের কন্যা সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলার চার্জশিট পিবিআই কর্তৃক ১১ জানুয়ারি দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে সিমিন গোপনে ভুয়া স্বাক্ষর ও নন‑জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে শেয়ার হস্তান্তরের নথি রচনার মাধ্যমে তার ভাইবোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

চৌদ্দই জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট উপস্থাপনের পর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ মামলাটি ২১ জানুয়ারি শোনানির জন্য নির্ধারণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হুসাইন শোনানির তারিখ নিশ্চিত করে জানান।

চার্জশিটে সিমিনের পাশাপাশি পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারি এবং লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান। এদের ওপরও শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, ভুয়া স্বাক্ষর এবং স্ট্যাম্পের অবৈধ ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের নথি রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি (RJSC)-তে জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হলেও, শেয়ার ট্রান্সফার ফি সময়মতো পরিশোধ না করে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিলম্বে প্রদান করা হয়। এই বিলম্বের পাশাপাশি হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই RJSC-তে উপস্থিত ছিলেন না, কেবলমাত্র অভিযুক্তদের আইনজীবী নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের শারীরিক উপস্থিতি এবং RJSC প্রতিনিধির সামনে স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ধারা ৩৮ অনুযায়ী নির্ধারিত। তবে এই প্রক্রিয়ায় উল্লিখিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, ফলে আইনের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে অভিযোগ।

অধিকন্তু, ২০২০ সালে সিমিন তার ভাইবোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নিবন্ধন করার চেষ্টা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি গ্রুপের নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন, যেখানে তার ছোট বোন শাযরেহ হকসহ পিতা, ভাই এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যের স্ক্যান করা স্বাক্ষর অন্তর্ভুক্ত।

সিমিন দুইটি ভুয়া নন‑জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে শেয়ার ট্রান্সফার দলিল প্রস্তুত করেন এবং সেগুলো RJSC-তে দাখিল করেন। শাযরেহ হকের নামে ২০২৩ সালে দাখিল করা এফিডেভিটের নন‑জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের ব্যবহারও জালিয়াতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেয়ার হস্তান্তরের সময় কোনো নথিপত্রে প্রকৃত স্বাক্ষর না থাকলেও, ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে শেয়ার মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং কোম্পানির মূলধন গঠনেও প্রভাব পড়েছে।

প্রসিকিউশন দল দাবি করে যে, শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, নথিপত্রের ভুয়া তৈরি এবং স্ট্যাম্পের অবৈধ ব্যবহার একত্রে কোম্পানি আইনের লঙ্ঘন এবং সম্পত্তি চুরি হিসেবে গণ্য হবে। অপরদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, মামলায় প্রমাণের যথার্থতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঠিকতা নিশ্চিত করা হবে।

মামলার পরবর্তী শোনানি ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। শোনানির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আদালত শাস্তি, সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি কোম্পানির স্বচ্ছতা ও আইনি মানদণ্ড বজায় রাখার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments