প্রসিদ্ধ গায়ক বি প্রাককে লরেন্স বিশনয় গ্যাংয়ের নামে এক অপরিচিত ব্যক্তি মৃত্যুর হুমকি এবং দশ কোটি টাকা চাওয়ার দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছে। অভিযোগ মোহালি শহরের সিনিয়র সুপারইন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) এর কাছে দাখিল করা হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে, পাশাপাশি শিল্পীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুসারে, প্রথম সন্দেহজনক যোগাযোগ ৫ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে মিসড কলের রূপে এসেছে। পরের দিন, ৬ জানুয়ারি আরেকটি কল এলে, তবে কথোপকথন অস্বাভাবিক মনে হয়ে ডিলনূর তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ডিলনূর, যিনি বি প্রাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগী, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি নথিভুক্ত করেন।
একই বিদেশি নম্বর থেকে পরবর্তীতে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়। রেকর্ডিংয়ে কলকারী নিজেকে আরজু বিশনয় বলে পরিচয় দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দশ কোটি টাকা প্রদান না করলে গুরুতর ক্ষতি করা হবে, এমন হুমকি জানায়। মেসেজে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “এই বার্তা বি প্রাককে পৌঁছে দিন, আমরা দশ কোটি চাই। এক সপ্তাহের মধ্যে না দিলে, তার সঙ্গে যুক্ত কেউকে ধ্বংস করা হবে।” এছাড়া “ধুলায় পরিণত করে দেব” এমন চরম হুমকি যোগ করা হয়েছে।
এই ভয়েস মেসেজটি অভিযোগের অংশ হিসেবে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশ বি প্রাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করছে এবং কলের উৎস অনুসন্ধানে বিশেষ দল গঠন করেছে। কলের ট্রেসিং, ভয়েস বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের সদস্যদের সনাক্তকরণে ফোরেনসিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তদন্তে যাচাই করা হবে যে কলকারী সত্যিই বিশনয় গ্যাংয়ের সদস্য নাকি কেউ নাম ব্যবহার করে হুমকি দিচ্ছে। গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান নির্ণয় করা জরুরি, যাতে সম্ভাব্য অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করা যায়।
লরেন্স বিশনয় গ্যাং পূর্বে উচ্চপ্রোফাইল অপরাধ, হুমকি এবং তহবিল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের বিভিন্ন শহরে এই গ্যাংয়ের নাম শোনা যায়, বিশেষত সেলিব্রিটিদের ওপর হুমকি জানানো ঘটনা রেকর্ডে রয়েছে। অতীতে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা চলচ্চিত্র শিল্প, সঙ্গীত জগত এবং ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি ও হিংসা চালিয়েছেন।
মোহালি পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্যাংয়ের সম্ভাব্য কার্যক্রম রোধে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, এবং বি প্রাকের পারফরম্যান্স ও রেকর্ডিং সেশনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা দল স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, হুমকির প্রকৃতি ও গ্যাংয়ের পূর্বের কার্যকলাপ বিবেচনা করে, কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ না করা হবে যাতে চলমান তদন্তে বাধা না আসে। তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীকে সহজে ধরা যায়।
বি প্রাকের পরিবার ও ম্যানেজমেন্টকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া, হুমকির শিকারদের জন্য মানসিক সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে তারা মানসিক চাপ কমাতে পারে।
এই ঘটনার পর, অন্যান্য শিল্পী ও পাবলিক ফিগারদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। সংগীত শিল্পে হুমকি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়ার ফলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করছে এবং শিল্পী সমিতিগুলোও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে।
বর্তমানে, তদন্ত চলমান এবং পুলিশ কলের ট্রেসিং, ভয়েস মেসেজের বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাংয়ের সদস্যদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



