20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুমিল্লা ১৯নং ওয়ার্ডের প্রাচীন সড়কে বেড়া নির্মাণে যানবাহন চলাচল বন্ধ, হাজারো বাসিন্দা...

কুমিল্লা ১৯নং ওয়ার্ডের প্রাচীন সড়কে বেড়া নির্মাণে যানবাহন চলাচল বন্ধ, হাজারো বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত

কুমিল্লা শহরের ১৯নং ওয়ার্ডের নেউরা উত্তর পাড়া এলাকায় শতবর্ষের পুরনো একটি সড়ককে ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত বেড়া দিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে, ফলে সড়কটি ব্যবহারকারী প্রায় হাজারো বাসিন্দা চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে।

নেউরা উত্তর পাড়ার সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে নেউরা খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের প্রধান যাতায়াতের পথ হিসেবে কাজ করে আসছে। সড়কের পাশে গ্যাস, বিদ্যুৎ লাইন এবং সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো অবস্থিত, যা এটিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পরিণত করেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় দুই ব্যক্তি, আমিনুল ইসলাম ও এরশাদ হোসেন, সড়কটি ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি করে বাঁশ ও সিমেন্টের পিলার দিয়ে একটি বেড়া গড়ে তোলেন। এই বেড়া সড়কের পুরো প্রস্থ জুড়ে স্থাপিত হওয়ায় গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং এমনকি রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বাঁধা সড়কের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন; বাজারে যাতায়াত, স্কুলে শিশুদের পৌঁছানো এবং জরুরি সেবার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের প্রবেশে বাধা হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান হ্রাসের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৪ জানুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, কাজী আবুল বাসারসহ মোট ৫৪ জন নাগরিক কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদর দক্ষিণ থানার ওসির কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। আবেদনপত্রে সড়কটি অবিলম্বে উন্মুক্ত করার দাবি করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সড়কের বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মৌলিক চলাচল ও জরুরি সেবার প্রবেশে গুরুতর বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং এই অবস্থা দ্রুত সমাধান না হলে আরও ক্ষতি হতে পারে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সড়কের বর্তমান অবস্থা ও প্রভাবের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

আবেদনপত্রের পর সদর দক্ষিণ থানার সহকারী শিপাই ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।现场 পরিদর্শনের সময় তিনি সড়কের অবস্থা, বেড়ার গঠন এবং তা থেকে সৃষ্ট বাধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। পরিদর্শনের ফলাফল প্রাথমিকভাবে রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।

এরশাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই কারণে তার অবস্থান ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, যা তদন্তকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন যে, কোনো সড়ক বন্ধ করা উচিত নয় এবং এই বিষয়টি বিশদভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সড়কের অবৈধ বন্ধের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুত সড়কটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।

প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সড়কের অবৈধ বন্ধের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বেড়া নির্মাণের জন্য কোনো অনুমোদন না থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণের জন্য শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া, সড়কের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরুরি সেবা প্রবেশের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হতে পারে।

অধিকন্তু, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের দিক থেকে সড়কের অবিলম্বে উন্মুক্তকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা প্রশাসন ও থানার সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হতে পারে, যাতে সড়কের অবস্থা, বেড়ার বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত, সড়কের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট অস্বস্তি দূর করা এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments