বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন ১৭ জানুয়ারি হাকিমপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, যে জুলাই‑আগস্টের প্রতিবাদে অর্জিত সাফল্যকে কোনো একক দল নিজের হাতে নিতে চাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ঐ সময়ের বৈষম্যবিরোধী ও সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সর্বস্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যা জনগণও স্বীকার করে।
অনুষ্ঠানটি উপজেলা ও পৌর বিএনপি সংযুক্তভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীতের পোশাক বিতরণে আয়োজন করে, যাতে গৃহহীন ও অনাথ শিক্ষার্থীরা শীতের কঠিন সময়ে সুরক্ষিত থাকে।
বিতরণকালে ডা. জাহিদ জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনের ফলাফলকে একা একা নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা দেশের মানুষ অনুমোদন করবে না; সকলের অংশগ্রহণই এই সাফল্যের মূল।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই‑আগস্টে ছাত্র‑জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি সমন্বিত আন্দোলন ছিল, যেখানে বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা একসাথে অংশ নিয়েছে।
৩৬ জুলাই ও ৫ আগস্টের ঘটনাকে তিনি স্বৈরাচারী শাসনের দেশ ত্যাগের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সবার যৌথ আন্দোলনের ফল।
ডা. জাহিদ সকল অংশগ্রহণকারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, যারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রেখেছেন, তাদেরকে সম্মানিত করা উচিত; ফলে অর্জিত বিজয় সবারই বিজয়।
অধিকন্তু, তিনি স্বৈরাচারী শাসনের গৃহহীন, গুম ও হত্যার অপরাধের বিচার বাংলার মাটিতে হবে বলে দাবি করেন, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।
বিদেশে লুকিয়ে থাকা অর্থের পুনরুদ্ধার ও তা দেশের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন, এবং অপরাধীদের আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, উপদেষ্টা আকরাম হোসেন, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর সভাপতি মো. ফরিদ খান, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক এবং অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বিশেষভাবে অনাথ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত, যা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে, এবং শীতকালে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
ডা. জাহিদের মন্তব্যগুলো বিএনপির অবস্থানকে স্পষ্ট করে, যে জুলাই‑আগস্টের প্রতিবাদ একটি ব্যাপক জনআন্দোলন ছিল এবং এর ফলাফলকে একক দল বা ব্যক্তির দখলে নেওয়া যাবে না; এই নীতি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



