গণভোটের আয়োজনের প্রস্তুতি জানাতে সরকারী প্রচার কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক আলী রীয়াজ শনিবার দুপুরে ঢাকা ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় জুলাই জাতীয় সনদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জনগণের মতামত জানার জন্য গণভোটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
আলী রীয়াজ, যিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সহ‑সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি জুলাই সনদকে দেশের নতুন দিকের মানচিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে, এই নথি রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে রচিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সনদটি এমন families‑এর কষ্টের ফল, যারা বহু বছর গুম হয়ে গেছেন, এবং যারা সন্তান হারিয়েছেন তাদের অশ্রু ও কষ্টের মাধ্যমে গঠিত।
রীয়াজ আরও জোর দিয়ে বলেন, এই সনদটি কেবল এক দল তরুণ শিক্ষার্থী বা ছোট ব্যবসায়ীর নয়, বরং রাজপথে কাজ করা শ্রমিক, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের ত্যাগের ফল। তিনি জনগণকে আহ্বান করেন, এই ত্যাগের দৃষ্টিকোণ থেকে সনদটি মূল্যায়ন করে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের চাবি জনগণের হাতে এবং এই চাবি ব্যবহার করে সনদটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব হল অন্যদের কাছে সনদের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা এবং সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তকে কার্যকর করা।
সভা সমাপ্তির আগে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সভার সভাপতিত্ব করেন এবং রীয়াজের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে, গণভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গণভোটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে সরকারী দলিল অনুযায়ী শীঘ্রই ভোটের সূচি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সরকার জুলাই সনদকে দেশের সংবিধানিক কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পথে অগ্রসর হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু পর্যবেক্ষক এবং সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের ব্যাপকতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি দাবি করে। তারা জোর দেন, ভোটের ফলাফলকে বৈধতা দিতে হলে সকল স্তরের নাগরিকের সমান সুযোগ ও তথ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা দরকার।
সারসংক্ষেপে, সরকারী প্রচার কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক আলী রীয়াজের বক্তব্যে জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্ব ও ত্যাগের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে, এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে সনদকে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হবে গণভোটের সূচনা, যার ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



