বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শনিবার ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় দেশের প্রত্যাশিত শক্তিশালী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি জানান। তিনি এই বক্তব্য দেন, যেখানে হাজারো নেতাকর্মীর গুম ও খুনের রক্তে গড়া আন্দোলনের চেতনা ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
সভাটি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ সংস্থার সমন্বয়ে আয়োজিত হয়, যেখানে শিকার পরিবারের সদস্য, পার্টির সিনিয়র নেতারা এবং অন্যান্য সমর্থক একত্রিত হন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি নষ্ট হবে।
বিএনপির ভদ্রতা ও নম্রতাকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করা যায় না, এ কথায় তিনি পার্টির স্বভাবের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টির শালীন আচরণকে কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের কর্মসূচি নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শান্তির স্বার্থে স্থগিত করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পরেও পার্টি এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি পুনরায় জোর দেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা বানচাল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পরিকল্পনা পার্টি দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে এবং আইনি পথে মোকাবিলা করবে।
তিনি ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে বিএনপি স্বাধীনতার পতাকা হাতে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের সংকেত দেন। এ পরিবর্তনকে তিনি পার্টির ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিএনপির নেতৃত্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার অধীনস্থ তরেক রহমানের ভূমিকা উল্লেখ করে, তিনি বলেন, জাতির প্রতি দায়িত্ব এখন তরেকের হাতে অর্পিত হয়েছে। এই নেতৃত্বের অধীনে পার্টি সাম্য, সুশাসন এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা ছিলেন। তাদের উপস্থিতি পার্টির ঐক্য ও সমর্থনকে দৃঢ় করেছে।
বিএনপি এই সভায় নির্বাচনী পরিবেশের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে শান্তির স্বার্থে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকার করেছে, তবে একই সঙ্গে পার্টি এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে দেখার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেনি।
অধিকাংশ বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সরকারী দিক থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না থাকায় পরিস্থিতি আপেক্ষিকভাবে স্থিতিশীল রয়ে গেছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি আগামী নির্বাচনে শক্তিশালী গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের পরিকল্পনা করছে। তিনি ভবিষ্যতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য পার্টির প্রস্তুতি জোর দিয়ে বললেন।
সভা শেষের দিকে পার্টি সকল দেশের নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করে, যাতে সমতা, সুশাসন এবং মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা যায়। এই আহ্বানকে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেন।



