বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রহমান আজ ঢাকা শহরের চায়না‑বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টিকারী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সমাবেশে আওয়ামী লীগ শাসনকালে জোরপূর্বক নিখোঁজ, হত্যা ও নির্যাতনের শিকারদের পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হয়েছিল। তরিকের ভাষণটি মূলত এই পরিবারগুলোর কষ্ট ও দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে গঠিত ছিল।
বক্তা তরিকের চোখে অশ্রু এসে পড়ে, তিনি কখনও কখনও পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করে সমবেদনা প্রকাশ করেন। তার এই আবেগপ্রবণ মুহূর্তগুলো উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তরিকের প্রধান বক্তব্য ছিল, দেশের সকল নাগরিক, দলীয় পার্থক্য নির্বিশেষে, যারা গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদেরকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের পথে বাধা দিতে চাওয়া কোনো গোষ্ঠীকে সফল হতে দেওয়া যাবে না।
বক্তা উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ রয়েছে, তবে কিছু লোক ভিন্ন ভিন্ন অজুহাত ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে থামানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা রোধে জনগণকে একত্রে কাজ করতে হবে।
তরিক ভবিষ্যৎ সরকারকে স্মরণীয় করে তোলার দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যারা নিখোঁজ হয়েছে এবং যারা অ্যান্টি‑ফ্যাসিস্ট আন্দোলনে শহীদ হয়েছে, তাদের স্মৃতি কখনো ম্লান হবে না।
বিএনপি কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছে যা ভবিষ্যতে শহীদদের সম্মান জানাতে সাহায্য করবে, তবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আজকের সমাবেশে সেসব পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে তিনি বিতর্কিত বলে সমালোচনা করেন। তবুও তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্য্য বজায় রাখবে এবং আইনগত পথে কাজ করবে।
বিএনপি শাসনে আসলে, তরিকের মতে, প্রধান সড়ক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শহীদদের নামে নামকরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের ত্যাগকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করতে পারে।
শহীদদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, যদিও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি; দলটি এখনও এই সমাবেশ ও তরিকের মন্তব্যের প্রতি কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তরিকের এই আহ্বান ও পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে দলীয় গঠন ও ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।



