উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় রাত্রিকালীন সময়ে প্রেসিডেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বী ববি ওয়াইনের বাড়ি থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা পুলিশ আজ স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে। ভোট গণনা চলমান এবং দেশের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এই দাবি প্রকাশ পায়।
ববি ওয়াইনের জাতীয় ঐক্য প্ল্যাটফর্ম (NUP) দল জানিয়েছে যে একটি হেলিকপ্টার তার বাড়ির প্রাঙ্গণে অবতরণ করে তাকে অজানা স্থানে নিয়ে যায়। দলটি দাবি করে যে অপহরণটি পরিকল্পিত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় করা হয়েছে।
ববি ওয়াইনের পুত্র সোলোমন কাম্পালা প্রথমে জানিয়েছিলেন যে তার বাবা-মা দুজনই গ্রেফতার হয়েছেন, তবে পরে তিনি সংশোধন করে বলেছিলেন যে তার বাবা পালিয়ে গেছেন, আর মা এখনও বাড়িতে আটক আছেন। এই পরিবর্তনশীল তথ্যের ফলে অপহরণ ঘটনার প্রকৃত অবস্থান নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
গণতান্ত্রিক নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইউগোন্দা মুয়েসেভেনির ভোট ভাগ ৭২ শতাংশ, আর ববি ওয়াইনের ভোট ভাগ ২৪ শতাংশ। এই সংখ্যা ৯৪ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র কিটুমা রুসোকে শনিবার সকালে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ববি ওয়াইনের বাড়ি এখনও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তার পরিবারই অপ্রমাণিত ও ভিত্তিহীন দাবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে বাড়ির আশেপাশের এলাকা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
রুসোকে উল্লেখ করেছেন যে নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কোনো ব্যক্তি এই স্থানগুলোকে অশান্তি সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করতে পারে না। তিনি বলেন, “আমাদের সকল পদক্ষেপের লক্ষ্য হল কোনো ধরনের সহিংসতা বা নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি রোধ করা।”
ববি ওয়াইন শুক্রবার তার সমর্থকদের আহ্বান জানান যে ঘোষিত ফলাফলগুলো ভুয়া এবং ভোট চুরি করা হচ্ছে। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তার অভিযোগের কোনো উত্তর দেয়নি।
সোলোমন কাম্পালা, যিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে আপডেট দিচ্ছিলেন, শনিবার সকালে টুইটারে লিখে জানান যে তার পিতার পালানোর পরেও তার মা এখনও বাড়িতে আটক আছেন এবং বাড়িতে কোনো বাহ্যিক ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারছে না। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি স্বীকার করে বলেন যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাচ্ছেন।
এই ঘটনার সময় উগান্ডার ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বন্ধ ছিল, যা ভোট গণনা এবং তথ্যের প্রবাহকে কঠিন করে তুলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে এই ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি ও তার প্রত্যাখ্যান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদি ববি ওয়াইনের দল তার দাবিগুলোকে যথাযথভাবে প্রমাণ করতে না পারে, তবে তার সমর্থকদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে, আর সরকার যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে রাখে, তবে বিরোধী দলের কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। ভবিষ্যতে উগান্ডার রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।



