আফগানিস্তানের প্রাক্তন দ্রুতগতি পেসার শাপুর জাদরান বর্তমানে জীবন‑মৃত্যুর সীমানায়, হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়। তার স্বাস্থ্য‑সংকটের তথ্য পরিবার ও আফগান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) উভয়ই নিশ্চিত করেছে।
জাদরানের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, কারণ সাম্প্রতিক পরীক্ষায় তার শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া দেখা গেছে। চিকিৎসকরা জানান, এই হ্রাসের ফলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং জটিলতা বাড়ছে।
শাপুর জাদরান ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন এবং আফগানিস্তানের উত্থান‑পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন, যার মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডে এবং ৩৬টি টি‑টোয়েন্টি অন্তর্ভুক্ত।
ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি ৪৩টি উইকেট এবং টি‑টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট সংগ্রহ করে দলের আক্রমণকে সমর্থন করেছেন। তার গতি ও সঠিক লাইন‑লেংথের জন্য তিনি ভক্তদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তরুণ পেসারদের জন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হতেন।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম আফগানিস্তান ওয়ানডে বিশ্বকাপে জাদরানও অংশ নেন, যেখানে তিনি দলের বোলিং আক্রমণে মূল ভূমিকা পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি এনে দেয়।
গত কয়েক দিন ধরে জাদরান শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার জানিয়েছে, রোগীর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখনই তীব্র পর্যবেক্ষণের অধীনে আছেন।
চিকিৎসকরা শ্বেত রক্তকণিকার হ্রাসকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং রোগীর রক্তের গঠন পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ থেরাপি চালু করেছেন। তারা জানান, রোগীর শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থার উন্নতি ধীর হতে পারে।
জাদরানের পরিবার রোগীর বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানিয়ে বলেছেন, তিনি এখনো সচেতন, তবে শ্বাস‑প্রশ্বাসের সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা রোগীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন।
আফগান ক্রিকেট বোর্ডও জাদরানের স্বাস্থ্য‑অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে বলেছে, তারা রোগীর চিকিৎসা খরচ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, জাদরান দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন এবং তার দ্রুত আরোগ্যই সকলের প্রার্থনা।
শাপুর জাদরানের অসুস্থতা আফগান ক্রিকেটের ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি দেশের প্রথম দিকের দ্রুতগতি পেসার হিসেবে পরিচিত, এবং তার অনুপস্থিতি দলের বোলিং ব্যালেন্সে বড় ফাঁক তৈরি করবে।
এই মুহূর্তে কোনো চিকিৎসা পরিকল্পনা বা পুনরুদ্ধার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি; সবকিছু রোগীর শারীরিক প্রতিক্রিয়া ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
রোগীর পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে দোয়া ও শুভেচ্ছা জানিয়ে চলেছেন, এবং সবাই জাদরানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।



