বাংলাদেশের বিদেশি বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আজ ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় গত পনেরো বছরে বিশাল পরিমাণ অর্থের অপচয় ও গোপনীয় লেনদেনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই রকম লেনদেনের ফলে দেশের আর্থিক সিস্টেমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, অতীতের এই সময়কালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা বিভিন্ন রূপে দেশের বাইরে সরে গেছে, যার বেশিরভাগই সরাসরি আর্থিক অপরাধের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব লেনদেনকে সূর্যের আলোয় চুরি করার মতো সরাসরি চুরি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
অপরদিকে, আরেকটি বড় অংশ পেশাদার হিসাবরক্ষকের জ্ঞান ও দক্ষতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি কোনো অযৌক্তিক ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আর্থিক রেকর্ডকে বিকৃত করে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
হিসাবের তথ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে অস্বাভাবিক লেনদেনকে স্বাভাবিক দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে, যা শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্য বহন করে। এই প্রক্রিয়াগুলোকে তিনি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ নয়, বরং সচেতন কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এই মন্তব্যগুলো SAFA আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে করা হয়, যার থিম ছিল “পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদন সংযোজন”। অনুষ্ঠানটি ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICAB) দ্বারা লে মেরিডিয়েন ঢাকা হোটেলে আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, আর্থিক শাসনে পুনরায় বিশ্বাস গড়ে তুলতে পেশাদারদের কঠোর দায়িত্বশীলতা ও সমষ্টিগত সতর্কতা প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে হিসাবরক্ষক ও আর্থিক পেশাজীবীদের নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এই ধরনের সতর্কতা দেশের ব্যবসা ও বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। আর্থিক জালিয়াতির খবর শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে, ফলে বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে এবং মূলধন প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
অধিকন্তু, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত তদারকি না করা ক্ষেত্রগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। হিসাবরক্ষণ মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদে, এই সতর্কতা দেশের আর্থিক কাঠামোর টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও টেকসই প্রতিবেদনকে একত্রিত করে ভবিষ্যৎ পেশার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য আর্থিক জালিয়াতি ও হিসাবের বিকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, পেশাদার নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা ছাড়া আর্থিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন সম্ভব নয়। এই বার্তা ব্যবসা জগতে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।



