আফগানিস্তান ক্রিকেটের প্রাক্তন দ্রুতগতি পেসার শাপুর জাদরান বর্তমানে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন। পরিবার ও আফগান ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সীমানায় রয়েছেন।
ডাক্তাররা জানিয়েছেন তার রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপুলভাবে কমে গেছে, যা রোগের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই ধরনের হেমাটোলজিকাল অস্বাভাবিকতা রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাপুরের বড় ভাই ঘামাই জাদরান ১২ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে তার অবস্থা বর্ণনা করেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে রোগী অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় এবং চিকিৎসকের তীব্র তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ভাইয়ের কথায় শাপুরের স্বাস্থ্যের প্রতি উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।
শাপুর জাদরান ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন এবং আফগান ক্রিকেটের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার দ্রুতগতি এবং সঠিক লাইন ও লেন্থের পেসিং দলকে বহু ম্যাচে সমর্থন করেছে। দশকের বেশি সময়ে তিনি দেশের সাফল্যের অংশ ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে শাপুর মোট ৮০টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যার মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডে এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি অন্তর্ভুক্ত। এই সংখ্যা তাকে আফগান দলের দীর্ঘমেয়াদী সদস্যের মর্যাদা দেয়। প্রতিটি ফরম্যাটে তার পারফরম্যান্স দলকে সমর্থন করেছে।
ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি ৪৩টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তার পেসিং দক্ষতার প্রমাণ। এই উইকেটগুলো প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেওয়া হয়েছে, যা ম্যাচের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। তার সঠিক দৈর্ঘ্য ও গতি ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে শাপুর ৩৭টি উইকেটের মালিক। ছোট ফরম্যাটে তার ভিন্ন ভিন্ন গতি ও বোলিং পরিকল্পনা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অর্জনগুলো তাকে দলের মূল আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম আফগান ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি অংশ নেন। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উচ্চবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার উপস্থিতি দেশের ক্রিকেটের স্বীকৃতি বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে শাপুর ব্যাটিং হাতে দায়িত্ব নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রান তৈরি করেন। তার এই অবদান দলকে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ঐ ম্যাচটি আফগান ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রয়ে গেছে।
দশকের বেশি সময়ে শাপুরের পেসিং ও মাঝারি ব্যাটিং দক্ষতা আফগান দলের সমন্বিত শক্তিতে অবদান রেখ



