ইয়োকোহামা শহরের মেয়র টেকহারু ইয়ামানাকা গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারীদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগের পর ক্ষমা প্রকাশ করেছেন। মানবসম্পদ প্রধান জুন কুবোতা একই দিনে মেয়রের বিরুদ্ধে ‘বোকা’, ‘মানব নীচে’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে কর্মীদের অবমাননা করার অভিযোগ তুলেন।
কুবোতা মেয়রের এই ধরনের আচরণকে কর্মস্থলে হয়রানির রূপে উল্লেখ করে, মেয়রের কথাবার্তা কর্মচারীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন। জাপানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরাসরি মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা অস্বাভাবিক, তাই এই ঘটনা দেশীয় মিডিয়ায় ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রাথমিকভাবে ইয়ামানাকা মেয়র কুবোতার অভিযোগকে অস্বীকার করেন এবং নিজের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন যে তিনি কোনো অপমানমূলক শব্দ ব্যবহার করেননি। তবে পরের দিন তিনি কিছু মন্তব্য স্বীকার করে, ‘বোকা’ ও ‘মানব নীচে’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন।
মেয়র উল্লেখ করেন যে এই কথাগুলো কর্মী মূল্যায়ন সংক্রান্ত আলোচনার সময় উঠে এসেছে এবং তিনি এখন থেকে কথার ব্যবহার ও আচরণে আরও সতর্ক থাকবেন। তিনি নিজের ভুলের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটার প্রতিশ্রুতি দেন।
কুবোতা মেয়রের ওপর ‘অপ্রয়োজনীয়’, ‘অবহেলাকারী’, ‘নিম্নমানের’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার এবং সহকর্মীদের চেহারা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগও তোলেন। তাছাড়া, মেয়র কুবোতাকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রস্তাব পেতে না পারলে ‘সেপ্পুকু’ (জাপানি আত্মহত্যা পদ্ধতি) করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বলে কুবোতা দাবি করেন।
এইসব অভিযোগের পর কুবোতা মেয়রের কাছ থেকে স্পষ্ট ক্ষমা চান এবং একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মেয়রের আচরণ কর্মচারীদের মনোবলকে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।
ইয়ামানাকা মেয়র পরবর্তীতে একটি সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে তিনি ‘বোকা’ ও ‘মানব নীচে’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, তবে অন্যান্য অবমাননাকর মন্তব্য, যেমন চেহারা নিয়ে তুলনা বা প্রাণীর সঙ্গে সমান করা, তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই মন্তব্যগুলো কর্মী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশে উঠে এসেছে এবং তিনি এখন থেকে কথার প্রভাব সম্পর্কে আরও সচেতন হবেন।
মেয়র আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে শহরের উপ-মেয়রের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্তের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হলে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
কুবোতা মেয়রের এই স্বীকারোক্তি ও ক্ষমা প্রকাশের পরও দাবি করেন যে মেয়র সব অভিযোগ স্বীকার করেননি এবং তিনি এখনও মেয়রের আচরণকে ‘অবিবেচনা’ বলে সমালোচনা করছেন। তিনি বলেন, মেয়রের দৃষ্টিভঙ্গি সমস্যার মূল সমাধান করতে পারে না এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দরকার।
এই ঘটনার ফলে ইয়োকোহামা শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। মেয়রের ক্ষমা ও তদন্তের প্রতিশ্রুতি শহরের প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মস্থল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সূচনা করতে পারে। তবে কুবোতার কঠোর অবস্থান এবং মেয়রের আংশিক স্বীকারোক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা অনিশ্চিত রাখে।
শহরের নাগরিক ও কর্মচারীরা এখন এই বিষয়ের ফলাফল নিয়ে প্রত্যাশা করছেন, বিশেষ করে মেয়রের নেতৃত্বে কর্মস্থল সংস্কার এবং নৈতিক মানদণ্ডের পুনর্নির্মাণের দিক থেকে। তদন্তের ফলাফল এবং মেয়রের পরবর্তী পদক্ষেপই ইয়োকোহামা শহরের প্রশাসনিক বিশ্বাস পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



